ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র চেয়ারম্যান ড. জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ, এ.এম.ডি কামাল উদ্দীন জসীমকে বহিষ্কার করা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুককে স্বপদে বহাল, ও ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলমের দোসর অপসারণ করাসহ দশ দাবিতে ইসলামী ব্যাংক ‘ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী গ্রাহক, শেয়ারহেল্ডার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
তাদের ১০ দফা দাবি হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র চেয়ারম্যান ড. জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ; এ.এম.ডি কামাল উদ্দীন জসীমকে বহিষ্কার করা; ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুককে স্বপদে বহাল; ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলমের দোসর অপসারণ; ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন; ইসলামী ব্যাংক গুলোর ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপের চক্রান্ত বন্ধ করা; ব্যাংক থেকে লুটকৃত অর্থ ফেরত আনা; ব্যাংক লুটেরাদের ফেরার পথ বন্ধ করা; প্রকৃত মালিকদের মালিকানা ফেরত দেওয়া এবং জনবল নিয়োগে ভারসাম্যতা রক্ষা করা।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুরু নবী মানিক জানান, বিনা কারণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খাঁনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। যেদিন থেকে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে সেদিন থেকেই ব্যাংকের ডিপোজিট কমতে শুরু করেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে অপর ৫টি ইসলামী ব্যাংকের মতোই এই ব্যাংককে-ও অর্থ সংকটে পড়তে হবে। তাই ব্যাংক বাঁচাতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ওমর ফারুক খাঁনকে বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরী।
এসময় তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের দোসররা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ব্যাংক ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তাদেরকে অপসারণ করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নতুবা আবারো ইসলামী ব্যাংক এস.আলম গ্রুপ নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে নেবে। ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের বিচার না হলে আবারও ব্যাংকিং সেক্টরে লুটেরা গোষ্ঠী থাবা দেবে। ব্যাংক ধ্বংস করার অর্থ হচ্ছে দেশের অর্থনীতির মেরুদ- ভেঙ্গে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, যদি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী এস.আলম গ্রুপ ব্যাংক সেক্টর ধ্বংস করতে পারে তবে আবারো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। ফলে বর্তমান সরকার ও দেশের জন্য হুমকির কারণ হবে। এই জন্য ইসলামী ব্যাংক গুলোর ওপর অবৈধ হস্তক্ষেপের চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে এবং ব্যাংক দখলের জন্য যেই রেজুলেশন তৈরি করা হয়েছে সেটি বাতিল করে ব্যাংক রক্ষার রেজুলেশন করতে হবে।
ব্যাংক থেকে লুটকৃত অর্থ ফেরত আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, লুট ও পাচারকৃত অর্থ ব্যাংকে ফেরত আসলে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হবে। ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের মালিকানা ফেরত দেওয়া হলে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্যতা রক্ষা থাকলে ব্যাংক বাঁচবে। ব্যাংক বাঁচলে দেশ ও সরকার বাঁচবে। তাই, ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের আট দফা দাবি মেনে নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ এবং এ.এম.ডি কামাল উদ্দীন জসীমকে বহিস্কারসহ দশ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক, শেয়ারহেল্ডার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা।