ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের অপসারণসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ব্যাংকটির আন্দোলনরত গ্রাহকরা। দাবি পূরণ না হলে সারাদেশের গ্রাহকদের নিয়ে আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (১০ জুন) অর্থমন্ত্রী বরাবর লিখিত দাবি জানাতে কয়েক হাজার গ্রাহককে নিয়ে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ে যায়।
সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারী গ্রাহকরা। পরে তারা ব্যানার-ফেস্টুনসহ সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রওনা হলে পুরানা পল্টন মোড় এলাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পুলিশের বাধায় মিছিলটি আর এগোতে না পেরে গ্রাহকরা পল্টন এলাকাতেই সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পল্টনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে যান। তারা অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে ছয় দফা সংবলিত স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।
অধ্যাপক নুর উন-নবী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ, ব্যাংক থেকে লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংকের মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিসহ ছয় দফা দাবি তারা সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তাই দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করা হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, দাবিগুলো পূরণ না হলে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। তিন কোটি গ্রাহককে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।
খুরশিদ আলম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গ্রাহক ফোরামের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নয় দিনের ব্যবধানে গ্রাহকেরা ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত তুলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় টাকা তোলার জন্য বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
ব্যাংকারদের একটি অংশের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তারল্যসংকট আরও বাড়তে পারে।
গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান করা হয়। এর পর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। আন্দোলনের মধ্যেই ১ জুন রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।