অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অপসারণ, গ্রাহকদের আমানতের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ব্যাংকের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনা এবং গ্রাহকদের ওপর সংঘটিত পুলিশি হামলার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি এক ঘণ্টার কলম বিরতির আহ্বান জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় যশোর শহরের আরএন রোডে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান শাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম, যশোরের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহক, ব্যবসায়ী, শিক্ষিত নাগরিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম, যশোরের আহ্বায়ক রাশিদুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি ব্যাংক নয়; এটি দেশের কোটি কোটি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও আমানতের প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ব্যবসায়ীরা এ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগ এবং বিতর্কিত নেতৃত্বের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের প্রতি জনগণের যে আস্থা রয়েছে, তা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যায় না। ব্যাংকের পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব, গোষ্ঠীগত স্বার্থ কিংবা অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি চলতে থাকলে সাধারণ আমানতকারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সমাবেশে বক্তারা বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে জনগণের উদ্বেগ ও মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। গ্রাহকদের ন্যায্য দাবি ও উদ্বেগ প্রকাশের অধিকার রয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী গ্রাহকদের প্রতি কঠোর আচরণ কিংবা পুলিশি হস্তক্ষেপ কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা, আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংকের মৌলিক আদর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, ব্যাংকটির ওপর যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে, তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের অপসারণ এবং পেশাদার ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ, সেলিম শিহাব, রেজওয়ান আহমেদ, রবিউল ইসলামসহ বিপুলসংখ্যক গ্রাহক। সঞ্চালনা করেন বদরুজ্জামান।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের উত্থাপিত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং ইসলামী ব্যাংকের স্বকীয়তা, সুনাম ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।