হেয়ার কাট পদ্ধতি বাদ দিয়ে মুনাফাসহ আমানত ফেরত পেতে আন্দোলনে থাকা ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তারা মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ফটকে আটকে দেন নিরাপত্তা কর্মীরা। এর পরও আন্দোলনকারীরা প্রবেশের চেষ্টা করলে ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় আন্দোলনকারীরা হ্যান্ড মাইকে ভেতরে প্রবেশের আবেদন জানাতে থাকেন। ঘোষণা দেওয়া হয়, গভর্নরের সঙ্গে দেখা না করে তারা ফেরত যাবে না। এ সময় তাঁদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফটক ছেড়ে দিলেও খানিক বাদে তারা ফের ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশ ফটক ফের বন্ধ করে সামনে পুলিশ অবস্থান নেয়। আর পুলিশ সদস্যদের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা একপর্যায়ে শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে পানিকামান ব্যবহার করে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চলমান আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ রেজা বলেন, আমাদের এখন ৪ শতাংশ মুনাফা দিচ্ছে হেয়ার কাট বাতিল করে। আমরা পুরো মুনাফা চাই, সব টাকা দ্রুত দিতে হবে। গভর্নরকে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম, দিতে দেয়নি।

আন্দোলনকারীদের একজন জয়নাল আবেদিন বলেন, আমার এক কোটি টাকার এফডিআর আছে। এখন চার লাখ টাকা মুনাফা দিতে চায়, এটা আমি মানি না। তারা তো ঠিকই বেতন বোনাস নিচ্ছে।

একীভূত করা ব্যাংক পাঁচটি হলো ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। এই ব্যাংকের আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এসব ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর ৪ শতাংশ করে সুদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা হেয়ার কাট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে আমানতের ওপর গত দুই বছরের ৪ শতাংশ করে মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক ও অন্যায্য। অনেক আমানতকারী এসব ব্যাংক থেকে মূলধন ও মুনাফা তুলতে পারছেন না। এতে অনেকেই কষ্টে জীবন যাপন করছেন। তাঁরা হেয়ার কাট সিদ্ধান্ত বাতিল করে মুনাফাসহ পুরো আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্তে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমানতকারীদের জন্য অমানবিক ও অন্যায্য। দাবি মানা না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, তাদের আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তো তারল্য সংকট রয়েছে। সব টাকা দিয়ে দিলে তো ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। সব টাকা দিতেও দেড় লাখ কোটি টাকা লাগবে। এত তো নেই। মাত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন। তাদের অনুরোধ করব, সরকার তো ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছে, আরো একটু ধৈর্য ধরতে হবে সব টাকা ফেরত পেতে।

এ বিষয়ে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, তাদের দাবির বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাচাই-বাছাই করছে, দেখা যাক কী সুপারিশ আসে।