আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী বোর্ড আজ রাতে (বাংলাদেশ সময়) বৈঠকে বসছে, যেখানে বাংলাদেশের জন্য চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির ঋণ ছাড়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জমা হবে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার।
এর আগে আইএমএফের কাছ থেকে তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২৩১ কোটি ডলার। বর্তমানে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি মিলিয়ে যে অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে, তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশকে মোট ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দেয়, যার শর্ত হিসেবে ছিল কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার।
তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ঋণের কিস্তি ছাড় প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল, কারণ বাংলাদেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানতে পারেনি। গত মে মাসে নতুন করে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে ঋণ ছাড়ের পথ সুগম হয়।
কোন শর্তে মিলছে অর্থ:
ডলারের বিনিময় হার: বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
রাজস্ব আয়: এনবিআরে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে। রাজস্ব আয় বাড়ানোর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
ভর্তুকি: ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর শর্ত থাকলেও আপাতত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
ব্যাংক খাত ও মুদ্রানীতি: ব্যাংক খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনার তথ্য আইএমএফকে দেওয়া হয়েছে। কঠোর মুদ্রানীতিও অব্যাহত রয়েছে, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমলে সুদের হার কমানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ডলার সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার আইএমএফের কাছে ঋণ সহায়তার জন্য আবেদন করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় হয়।
এই অর্থ ছাড় চূড়ান্ত হলে তা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।