মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, বর্তমানে দেশে তেলের মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও জ্বালানি বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী এপ্রিল পর্যন্ত তেলের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে, ফলে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের বন্দরে একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস চলছে এবং আগামীকাল সোমবার আরও দুটি বড় তেলের জাহাজ বন্দরে ভিড়বে।

এছাড়া এপ্রিল মাস পর্যন্ত ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চলতি মাসে ১৪টি এবং আগামী মাসে ১৫টি কার্গো জাহাজ আসার শিডিউল রয়েছে, যার বেশিরভাগই ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় শতভাগ এবং অকটেনের বড় একটি অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়।

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত ‘কনডেনসেট’ প্রক্রিয়াজাত করে ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম, যেখানে দেশে বার্ষিক চাহিদা মাত্র ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন।

ফলে আমদানিতে সাময়িক সমস্যা হলেও পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

সরকার বলছে, যুদ্ধের অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আতঙ্কিত সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত ক্রয়ের ফলে বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে দুপুরের পর তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়। নাটোরে বাঁশঝাড়ের নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল অবৈধভাবে মজুত করায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চীনা জাহাজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিকল্প উপায়ে তেল পরিবহনে বড় কোনো বাধা আসবে না।

এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৫০ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি তেল বিক্রি হওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন থাকায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।