সরকার শুল্ক প্রত্যাহার করেছে, আমদানির পরিমাণও বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। কাগজে-কলমে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

রাজধানীর মগবাজার থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের চকবাজার কিংবা রাজশাহীর মফস্বল—কোথাও মিলছে না নির্ধারিত দামের গ্যাস। অধিকাংশ এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকায়।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এলপিজি আমদানির ওপর থেকে ২ শতাংশ আগাম কর এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে সরকার। লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে সস্তায় গ্যাস পৌঁছে দেওয়া।

এর প্রেক্ষিতে বিইআরসি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১,৩৪১ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু ভোক্তাদের মতে, এই নামমাত্র মূল্য সমন্বয় বাজারে কোনো ইতিবাচক প্রভাবই ফেলতে পারেনি।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও বাড্ডা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন।

মোহাম্মদপুরের বিক্রেতা শহিদুল জানান, ‘ডিলাররা বেশি দামে গ্যাস দিচ্ছেন, তাই সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।’

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে পরিস্থিতি আরও নাজুক। চট্টগ্রামে ১,৬৫০ টাকা এবং রাজশাহীতে ১,৬০০ টাকার নিচে মিলছে না সিলিন্ডার। মফস্বল পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে দাম ২ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংগঠন ক্যাব-এর সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত তদারকি না থাকলে শুল্ক কমানোর সুফল কেবল ব্যবসায়ীদের পকেটেই যাবে।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২১ দিনেই ৯১ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। মেঘনা গ্রুপসহ বড় কোম্পানিগুলোর বিশাল জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরের পথে।

জানুয়ারিতে আমদানির অনুমোদনে জটিলতা থাকায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা এখন কেটে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিতাস গ্যাসের সংকটের কারণে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একটি চক্র কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্বীকার করেছেন যে, সারা দেশের বাজার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার মতো পর্যাপ্ত জনবল তাদের নেই।

তবে তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং জরিমানাও করা হচ্ছে।

ভোক্তারা বলছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় আমদানিকারক ও ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। শুল্ক কমানোর সুবিধা কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।