গৃহস্থালিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খোলা বাজারের এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার। গত কয়েকদিন থেকে তা এখন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। তারপর পাওয়া যাচ্ছে না।

পূর্ব রামপুরার মৌলোভিরটেকে এলপিজির গ্যাসের দোকানে বাসিন্দারা কিনতে গেলে দোকান মালিকরা বলেন এলপিজি সিলিন্ডার নেই। এমনি কি এলপিজির গ্যাস বিক্রি করবে না বলে অধিকাংশ দোকানের শাটার বন্ধ দেখা যায়।

খিলগাও এলাকার এক দোকানে পাওয়া গেলেও এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৮০০ টাকা বলে তারপর বিক্রি করতে চাই না।

সামিয়া নামের এক গৃহিণী রামপুরা এলাকায় থাকেন । তাদের পরিবারের লোক বেশি থাকায় ৩৫ কেজির এলপিজির গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু গত ২৯ ডিসেম্বর সকালে দোকানে গেলে তা কোনো দোকান মালিকই গ্যাস বিক্রি করতে চাই না।

ওই গৃহিণী বলেন, এলাকার দোকানে গ্যাস থাকা সত্বেও তারা গ্যাস বিক্রি করতে চাচ্ছে না। যদিও এক দোকানে পাওয়া গেছে দাম চাচ্ছে ৫০০০ হাজার টাকা যা গত মাসে কিনা হয়েছিলো ৩৯০০ টাকা দিয়ে। এক সিলিন্ডারের দাম দিতে হয়েছে দেড় হাজার টাকা। হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি চিন্তা করা যায় না।’

এই অস্বাভাবিক বাড়তি দামে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি। তিনি এক জাতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। ১ হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে ২০০ থেকে ৩০০ সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাক গিয়ে বসে থাকছে, খরচ বাড়ছে। প্রতি সিলিন্ডারে কোম্পানি ৭০ থেকে ৮০ টাকা বাড়তি দাম নিচ্ছে।

শীতের সময় বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দামও কিছুটা বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। এতে আগের মাসের তুলনায় গত মাসে এলপিজি আমদানি কমে গেছে।

৪ জানুয়ারি বিইআরসির নতুন দাম ঘোষণার কথা রয়েছে। বিইআরসি ও এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, শীতের সময় বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে দামও কিছুটা বাড়তি থাকে। এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানির জাহাজসংকট। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তারপরও চাইলেই জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আগের মাসের তুলনায় গত মাসে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়। ডিসেম্বরে আমদানি করা হয়েছে ৯০ হাজার টন। আমদানি খরচ বাড়ায় কিছু কোম্পানি কিছুটা বাড়তি দাম রাখতে পারে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, বাড়তি দামের বিষয়টি নজরে আসায় লোয়াবকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমদানিকারকদের আমদানি খরচ বাড়লে তারা তা কমিশনে জমা দেবে। কাগজে-কলমে বাড়তি খরচের বিষয়টি নিশ্চিত হলে কমিশন নতুন মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তা বিবেচনায় নেবে। তার আগে বাড়তি দামে বিক্রির সুযোগ নেই।