জোরপূর্বক শ্রম (forced labor) রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) ধারা ৩০১-এর অধীনে একটি অন্যায্য বাণিজ্য তদন্তের সর্বশেষ ফলাফল হিসেবে এই বিস্ফোরক প্রস্তাবটি প্রকাশ করে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে যে, এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত জরুরি শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষায় আরও একবার কঠোর ও আগ্রাসী বাণিজ্যিক নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন দেশ থেকে সস্তা শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে ওয়াশিংটন এবার আইনি ও শুল্ক সংক্রান্ত বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
মূলত বাংলাদেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকার শিরোনামের এই চাঞ্চল্যকর খবরটি আজ সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের জরুরি শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই মূলত এই বিশাল সংখ্যক দেশের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আইন লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার সুনির্দিষ্ট তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন কর কাঠামোর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকার তরফ থেকে আসার এই ঘটনাটি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়া একটি শুল্কব্যবস্থাকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা।
ইউএসটিআর স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য একটি অস্বাস্থ্যকর ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যা কোনোভাবেই আর মেনে নেওয়া হবে না।
ওয়াশিংটনের এই নতুন নীতিমালার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো ছাড়াও ইউরোপ এবং আমেরিকার নিজস্ব মিত্ররাও রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জানা গেছে যে, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া ও তাইওয়ানসহ মোট ১৫টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।