বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে ডলার সংকট, আমদানি বকেয়া এবং পরিবহনজনিত জটিলতা।
১. ডলার সংকট ও ঋণপত্র (LC) খুলতে বাধা
জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের তীব্র সংকটের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো এলসি বা ঋণপত্র খুলতে পারছে না।
বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে পর্যাপ্ত ডলার পাচ্ছে না।
এর ফলে জ্বালানি আমদানির জাহাজগুলোর সময়সূচী পিছিয়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি স্থানীয় সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
২. বকেয়া পাওনা ও সরবরাহকারীদের চাপ
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর বিশাল অঙ্কের পাওনা বকেয়া পড়ে আছে।
বকেয়া পরিশোধ না করায় অনেক বিদেশি কোম্পানি নতুন করে জ্বালানি পাঠাতে দেরি করছে অথবা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
পাওনা পরিশোধের জন্য সরকার ও বিপিসি হিমশিম খাচ্ছে, যা সামগ্রিক মজুত ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
৩. পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ধীরগতি
কখনো কখনো জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তা পাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে যান্ত্রিক বা বিতরণজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
রিফাইনারি সমস্যা: ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কারিগরি ত্রুটি বা উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।
পরিবহন ধর্মঘট বা জট: অনেক সময় ট্যাংকলরি শ্রমিকদের সমস্যা বা পরিবহনের উচ্চ খরচের কারণেও ঢাকার বাইরে পাম্পগুলোতে তেল পৌঁছাতে দেরি হয়।
ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে যে বাধা তৈরি হয়েছে, সেটিই পাম্পের দীর্ঘ লাইনের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দের চেষ্টা করছে।