উৎপাদনের ভরা মওসুমে সকল প্রকার শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমলেও আশানুরূপ কমেনি চালের দাম। মোটা চাল কেজি প্রতি কমেছে ৩/৪ টাকা। চাহিদা বেশি থাকার কারণে দাম বেড়েছে চিনি আতপ চালের। ভোক্তা অধিকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
বাংলা সনের পৌঁষ মাসে কৃষকেরা খেত থেকে নতুন ধান কেটে ঘরে তোলে। উৎপাদনের এই ভরা মওসুমে চালের দাম এখনো আশানুরূপ কমেনি। এদিকে এ মওসুমে সকল প্রকার শাক সবজির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে যতটা স্বস্তি ফিরেছে চালের বাজার নিয়ে তার চেয়ে অস্বস্তি বেশি বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। বর্তমানে খুচরা বাজারে কেজি প্রতি স্বর্ণা চাল ৫০-৫৫ টাকা, ২৮ বালাম সিদ্ধ ৬০-৬৫-৭০ টাকা, বালাম চিকন ৭৫-৮০ টাকা, ২৮ বালাম আতপ ৬০-৬৫, নাজিরশাইল ৮২-৮৬ টাকা, ইনডিয়ান বাসমতি ৮৫-৯০ টাকা, কাটারীভোগ ৯০-৯২ টাকা, গাজী আতপ ৪৪-৪৮ টাকা, আতপ চাল ৯০-৯৫ টাকা, কালো জিরা ১২০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চিনি আতপ আগে ১১৫ টাকা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়।
নগরীর লবণচরা বান্দা বাজারের আরফাত অটোরাইচ মিলের ম্যানেজার মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, “চালের দাম আগের চেয়ে কমেছে। ২৮ চাল আগে বিক্রি করতাম ১৬শ’ টাকায়; তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৯০-১৪০০ টাকায়। চিকন বালাম ছিল ১৭শ’ টাকা; এখন তা আমরা বিক্রি করছি ১৫৫০ টাকায়। গাজী আতপ ছিল ১২শ’ টাকা তা বর্তমানে ৯৮০-১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, “কৃষকেরা ধান কাটলেও তা এখনো মিলে আসেনি। নতুন ধান আসার আগে থেকেই বাজার অনেকটা নিম্নমুখী।” লবণচরার বান্দা বাজারের চাল ব্যবসায়ী রাফি এন্টারপ্রাইজের মালিক ফারুক হোসেন বলেন, “বর্তমানে স্বর্ণা চাল চলছে ৪৮টাকা কেজি। যা কিছু দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা করে। তার মতে কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে চালের দাম। গাজী আতপ ২৫ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১১০০-১২০০ টাকা। ২৮ চিকন আতপ ১১৫০-১৩৫০ টাকা।” খুলনার হেলাতলার মদিনা ট্রেডিং’র পরিচালক নজমুল ইসলাম বলেন, “চালের দাম বর্তমানে কম। পাইকারি বাজারে স্বর্ণা চাল আগে ছিল ৫২ টাকা যা বর্তমানে ৪৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম কেজি প্রতি কমেছে ৩-৫ টাকা কমেছে। শুধু চিনি আতপের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫-২০ টাকা।” তিনি বলেন, “চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়া দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে চিনি আতপের। বড় বাজারের ৪নং ওয়েষ্ট মেকট রোডের ওয়াদা ট্রেডিং’র পরিচালক বলেন, “আগের চেয়ে দাম কমেছে। ২৮ বালাম আগে ছিল ১৫শ’ টাকা যা এখন ১৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
সরদার আমির হোসেন বলেন, “নতুন চাল আসার সুবাদে স্বর্ণা চালের দাম কমেছে। যে চাল ছিল ৫০-৫১ টাকা তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৩-৪৪ টাকায়। শুধু চিনি আতপের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সিজেনে পিকনিক, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তবে ক্রেতারা চালের বাজার নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। নিরালা বাজারে চাল কিনতে আসা নগরীর ট্যাকরোড এলাকার রবিন বলেন, “২৫ কেজির প্রতি বস্তা ১৭৫০ টাকা দরে তিন বস্তা মিনিকেট চাল (মেশিনে তৈরি চাল) কিনেছি। এই চাল গত মাসে কিনেছি ১৬৮০ টাকা দিয়ে। দাম তেমন কমেনি । চালের দামটা যদি আর একটু কমে হয় তাহলে ভালো হয়। ভরা মওসুমে সব কিছুর দাম কমলেও চালের দাম কমেনি। যদি বস্তায় ৭০-৮০ কমে, আবার বৃদ্ধি পাওয়ার সময় ১৫০-২০০ বৃদ্ধি পায়। লবণচরার বান্দাবাজর এলাকার ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, দাম কমেছে কই? গত মাসে ১৭০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এ মাসেও একই চাল ১৭০০ টাকা নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “চালের বাজার এক এক স্থানে এক এক রকম। বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্রেতারা।”