পবিত্র মাহে রমযানের দ্বিতীয় দিনেই লাগামহীন উর্ধ্বগতি রাজধানীর কাঁচাবাজার, গোশত ও ফলের বাজারে। যেদিও গেল বছর এই রমযানে নিত্যপণের দাম ছিল জনগণের নাগালের মধ্যেই। শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ইফতারের অপরিহার্য পণ্যগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। প্রতিটি এখন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে লেবু, বেগুন ও শসা সবকিছুর দামই এখন শতকের ঘর ছাড়িয়েছে। কাঁচামরিচের দামেও দিশেহারা ক্রেতারা। প্রতি কেজি ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে বাজারের এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শীতকালীন সবজির অভাব নেই। আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, দেশি টমেটো ও গাজর কিছুটা কম দামে বিক্রি হলেও রমযানকেন্দ্রিক সবজিগুলোর দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। বাজারে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, আর ছোট লেবু মিলছে ১০০ টাকায়। গোল বেগুনের কেজি ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। প্রতি কেজি শসা ১২০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচামরিচ ২২০ টাকা কেজি হলেও কাঁচা-পাকা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমযানের প্রভাবে ইফতারের আইটেমগুলোর দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যবারের মতো সিন্ডিকেট চক্রই এটি নিয়ন্ত্রণ করছে। এখানে সরকারি লোকজনের সম্পৃক্ততাও রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। তবে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

বাজারে মানভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা এবং ধুন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, শিম ৭০-৮০ টাকা এবং শালগম ৪০-৫০ টাকায় মিলছে। লাউ প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা কেজি এবং ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা আনিস বলেন, ইফতারের প্রয়োজনীয় বেগুন, শসা ও লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। নিত্যদিনের এসব সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মধ্যবিত্তের পক্ষে খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

বাজারে লালশাকের আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-৩০ টাকা এবং ডাঁটাশাক, কলমি শাক ও পালংশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গতকাল রমযানের প্রথম শুক্রবার। একদিকে ছুটির দিন উপলক্ষে সপ্তাহের বাজার এবং অন্যদিকে ইফতারের বিশেষ আয়োজনের চাহিদাকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মাছ–মাংসের দামে চড়া ভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগি, গরুর মাংস ও মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগেও এ মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া গেছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা পর্যন্ত দরে, যা গত সপ্তাহেও ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমযানে ইফতার ও বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনে চাহিদা বাড়ায় সিন্ডিকেট চক্র দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের রুই ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি, কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম আকারভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ভালো মানের দেশী মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া।

রামপুরা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রবিউল আলম বলেন, রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরেক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহেও যে রুই মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৪০০ টাকার ওপরে। মুরগির দামও বেড়েছে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, নদীর দেশী মাছ এখন কম। বেশির ভাগই চাষের মাছ। পরিবহন খরচ, বরফের দাম, সব মিলিয়ে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা খুব বেশি লাভ রাখছি না, কিন্তু পাইকারি দামের কারণে খুচরায় একটু বাড়তি পড়ছে। তবে ডিমের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের সমান।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজার শুরুতেই চাহিদা বাড়ায় মাছ-মাংসের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সামনে পুরো মাসজুড়ে এ ধারা থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ক্রেতারা। তাদের আশঙ্কা, যদি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে রোজার মাঝামাঝি সময়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে রমযান মাস শুরু হতে না হতেই রোজার অন্যতম আইটেম ফলের বাজারে উত্তাপ অতীতের রেকর্ড় ছাড়িয়েছে। রোজার আগে যে ফল সাধারণ মানুষের নাগালে ছিল, চাহিদাকে পুঁজি করে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর থেকে শুরু করে আঙুর, আনার বা আপেল সবকিছুর দামই এখন আকাশচুম্বী। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারের মতো এবারও ফলের বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অতি মুনাফা লুটছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। দাম শুনে অনেকের মধ্যেই বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা গেছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মেডজুল খেজুর, যার প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া মরিয়ম খেজুর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমী ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, সুকারী ৮০০ টাকা এবং মিনিফী খেজুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের পরেই দামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে আনার; মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬২০ টাকায়। কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৮০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক কম দামের ফলের তালিকায় থাকা পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, বরই ১৬০-২০০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ফলের সরবরাহ থাকলেও রমযান উপলক্ষ্যে এগুলোর দামও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা। এ ছাড়া ডজনপ্রতি সবরী ও সাগর কলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দাম যাচাই করতে আসা শাহনাজ নামের এক ক্রেতা বলেন, এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজা আসলে ব্যবসায়ীরা সব সময় এমন করে। অন্য এক ক্রেতা জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তালতলা মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর জালিল জানান, তারা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কেনেন। সেখানে একেক সময় একেক দামে ফল কিনতে হয়। তিনি বলেন, পাইকারিতেই দাম বাড়ায় সিন্ডিকেট চক্র। পাইকারিতে যেমন দামে কিনি, সীমিত লাভে তেমন দামেই বিক্রি করি।

রমযানে রাজশাহীতে নিত্যপণ্যের দামে আগুন ॥ নাজেহাল নগরবাসী

মহিব্বুল আরেফিন, রাজশাহী : পবিত্র রমযানে রাজশাহীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চরম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে লেবু, কাঁচামরিচ, শসা, টমেটো, বেগুন ও খেজুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ দরে বিক্রী করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের বৃদ্ধিতে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। সবথেকে দুর্বিসহ জীবন পার করছেন নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার গুলো। রাজশাহীর বাজার গুলো ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ২-৩ দিনের ব্যবধানে লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসময় প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে তা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কোন কোন বাজারে লেবু ৮০ থেকে ১’শ টাকা হালিতেও বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমযানের ইফতারকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারদর তুলনা করে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রী হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত। শসা প্রতি কেজি বিক্রী হয়েছে ৫০-৭০ টাকা এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ৬০-৭০ টাকার বেগুন বিক্রী হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, খেজুর কেজিতে ৫০-৭০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাবসায়ীরা দাবী করছেন, পাইকারি বাজারে দর বাড়ার প্রভাব সরাসরি খুচরা পর্যায়ে পড়ছে। কোন কোন ব্যবসায়ী বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শীতকালীন সবজির দামও বেড়েছে। সাহেববাজারের এক ক্রেতা বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও যে বাজার এক হাজার টাকায় হতো, এখন তা করতে দেড় হাজার টাকা লাগছে।” একজন নিম্নআয়ের চাকরিজীবী খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ তুলে বলেন, “রমযান এলেই বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়। বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে এ অবস্থা চলতেই থাকবে।” এছাড়া বাজারে চিনি ১’শ টাকা আর মুড়ির দাম ওঠেছে ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ভোজ্যতেল সোয়াবিন প্রতি লিটারে তিন টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯৭ টাকা, পাম ওয়েল প্রতি লিটারে একটাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬৬ টাকা, পেঁয়াজ প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, রসুন (আমদানিকৃত) প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা, দেশি রসুন প্রতিকেজিতে ৫০-৪৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা, আদা প্রতি কেজিতে ১০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, বয়লার মুরগি প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়, দেশি মুরগি প্রতিকেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬’শ টাকা, কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শশা প্রতি কেজি ৮০, বেগুন ৭০ থেকে ৮০, চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। অপরদিকে বিপুল পরিমাণ নতুন আলু আমদানি হলেও দাম কমেনি। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। শনিবার নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে। ভরামৌসুমেও একটি ফুলকপির দাম ৬০ টাকা ও বাঁধাকপি ৫৫ টাকা। শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। মাঝারি আকারের লাউ ৬০ টাকা। করলা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে রাজশাহীর বাজারে মাছের দাম আগের মতোই আছে। প্রতি কেজি পাঙাশ ৩’শ টাকা, সিলভারকার্প ২৫০ টাকা, বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বেড়েছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। সোনালি প্রতি কেজি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা করে। এছাড়া দেশি মুরগি ৪৮০ টাকা থেকে ৫’শ টাকা, সাদা লেয়ার ২৫০ টাকা, পাতিহাঁস ৪২০ টাকা, রাজহাঁস ৬০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে হটাৎ করেই রমযানকে ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারা হতভম্ব। তারা দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল নিয়ে চলছে অস্থিরতা। মিল থেকে প্রয়োজনীয় তেল দেয়া হচ্ছে না ব্যবসায়িদের। এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, রাজশাহীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি ও স্বচ্ছ দরতালিকা প্রকাশ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে মনে করছেন। পবিত্র রমযান উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত পণ্যের

পাশাপাশি ছোলা ও খেজুর বিক্রি করবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রাজশাহী মহানগরীতে খোলা ট্রাকে সর্বসাধারণের জন্য টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতি ট্রাকে ৪০০ জনের ১৫ টি ট্রাকে ৬০০০ পরিবারকে প্রতিদিন নিম্নোক্ত পণ্য দেয়া হচ্ছে ২ কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, ২ লিটার ভোজ্যতেল ২৩০ টাকা, ১ কেজি চিনি ৮০ টাকা, ১ কেজি ছোলা ৬০ টাকা, হাফ কেজি খেজুর ৮০ টাকা যার প্যাকেজ মূল্য ৫৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিলারগণ সকাল ১১ টার মধ্যে পণ্য বিক্রয়ের স্থানে পৌঁছে ট্যাগ অফিসার/ওয়ার্ড সচিবদের উপস্থিতিতে পন্য বিক্রি করা হচ্ছে।