কিছুটা স্বস্তি ফিরছে নিত্য পণ্যের বাজারে। প্রচণ্ড হিমেল আবহাওয়ার কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শীতকালীন সবজির পাশাপাশি মাছ, ডিম, মুরগির দাম বাড়তি ছিল। আবহাওয়া স্বাভাবিক হতেই শীত মওসুমের সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের দাম কমেছে। মাছ ও মুরগির বাজার দামের তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই মাছের দাম রয়েছে, আর মুরগির বাজার রয়েছে স্থিতিশীল। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং বাজার সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগেও একই ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে। ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে যাওয়ায় দামও কিছুটা নামছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।
গোশতের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর গোশত আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির গোশত ১,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। ক্রেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ আছে।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম একই অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দাম কমেনি। বাজারে কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত কিছুদিন ধরে সবজির বাজার বেশ উত্তপ্ত ছিল। শীত কমায় কিছুটা দাম কমেছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, শীতের মওসুমে দাম আরও কম থাকার কথা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি গাজর ৪০ টাকা, শিম ৩০-৫০ টাকা, করলা ৮০ ১১০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, মটরশুঁটি ১১০-১৩০ টাকা, বরবটি ৮০-১০০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা ও বেগুন ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা ও একেকটি বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ব্রকলি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ফুলকপি আকারভেদে ৩০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় এর দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। এতে বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ইরি বোরো ধানের আবাদ শুরু হওয়ায় অনেক কৃষক সবজি চাষ কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে উৎপাদন উৎসে দাম কিছুটা বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।