বেড়েছে চাল ডাল তেলের দাম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দাম বাড়ছে। সপ্তাহ ব্যবধানে ডাল, তেল, চিনি ও ছোলার দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে সবজি ও নতুন পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে কাঁচাবাজারে। নির্বাচনের পর পরই শুরু হবে পবিত্র পবিত্র রমজান মাস। এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রমযানের মানুষের রোযা রাখা কষ্ট হয়ে যাবে। এ জন্য এখন থেকেই এদিকে নজর দেয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেছে। ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। আগে যা ৯০০ টাকা ছিল, এখন তা ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা। বর্তমানে মানভেদে ডাল ১৬৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছোলার কেজি সপ্তাহ খানেক আগে ৯০ টাকা থাকলেও এখন তা ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য পণ্যের মধ্যে মশলার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ৩২০০ টাকার এলাচি এখন ৫৫০০ টাকা। ৪০০ টাকার আলু বোখারা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা। কিশমিশ ৯০০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দোকানিরা জানান, ভ্যাট হয়তো বেড়ে গেছে। এজন্য দাম বেড়েছে। পণ্যভেদে নেসলের বিভিন্ন শিশুখাদ্য যেমন ল্যাকটোজেন ও নিডো দুধের দাম কৌটা প্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আড়াই কেজির নিডো এখন ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের চা পাতার দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে।
মাছ-গোশতের বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা দিয়েছে ডিমের বাজারে। গত সপ্তাহে ১০০ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিম আজ ১২৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মুদি পণ্যের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও কাঁচাবাজারে দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি নতুন পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এখন প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। আর বাজারে বিক্রি হওয়া সিংহভাগ পেঁয়াজ দেশি। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি হয়ে আসা কিছু পেঁয়াজ এখনো ৭০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এছাড়া শীতের সবজির দামও নিম্নমুখী। এর মধ্যে ফুলকপির দাম ৫০ টাকা থেকে কমে এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। বাধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। নতুন আলুর দাম মান ও বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। সবজির মধ্যে শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বেগুন মানভেদে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, টমেটোর ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে অন্য পণ্যগুলো আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর সপ্তাহখানেক আগে মুরগির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছিল। মাংসের দামের মধ্যে গুরুর মাংসের দাম বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই রয়েছে। ৮০০ টাকা করে কেজি বিক্রি হচ্ছে। তার মানে এখনও সেই বাড়তি দামে আটকে আছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।