পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছে এক সপ্তাহ আগে। ইতোমধ্যে ছুটি কাটিয়ে নগরীতে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। ঈদের পরের শুক্রবার (গতকাল) বাজারে মাছ-গোশত, সবজিসহ প্রায় সব পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। দামও অনেকটা স্থিতিশীল। তবে বাড়তি চাহিদার কারণে ঈদে যেসব গোশতের দাম বেড়েছিল তার মধ্যে ব্রয়লার মুরগি ছাড়া সোনালি মুরগি, গরু ও খাসির গোশতের দাম এখনো চড়া রয়েছে। অন্যদিকে, বাজারে ঈদের আগের মতোই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট রয়ে গেছে। রাজধানীর ঝিগাতলা কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, কৃষি মার্কেট, রামপুরাবাজার ও সেগুনবাগিচাসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বসন্তের শেষের দিকে বাজারে নতুন নতুন মৌসুমি সবজি ওঠেছে। কৃষকের হাত পেরিয়ে নগরে মিলছে তাজা সতেজ ঢেঁড়স, শিম, পেঁপে, পটল, বেগুন, করলা, মরিচ, শসা, বরবটি, চিচিঙ্গা, টমেটো, কপিসহ নানা ধরনের সবজি। এর মধ্যে ঢেঁড়স, শিম, পেঁপে, পটল ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, মরিচ, শশা, বরবটি চিচিঙ্গা ৮০-৯০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজি ঈদের আগের দামে কিনতে পারছেন বলে জানালেন ক্রেতারা। সামান্য বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। ঈদের আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ টাকার মধ্যে। সে হিসাবে কেজিতে দাম বেড়েছে অন্তত ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময়ে সরবরাহ কম থাকার কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে কিছু সবজিতে দাম বাড়িয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় লাগায় কিছুটা দেরিতে আসছে পণ্যবাহী যানবাহন। এতে খরচ ব্যয় বেড়েছে ব্যবসায়ীদের।

‎ঝিগাতলা কাঁচাবাজারে কথা হয় রহমান বিন দিদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় এসেছি। প্রতি সপ্তাহের বাজার করতে এসে মোটামুটি মাছ, মাংসের পাশাপাশি সবজি কিনতে এলাম। ঈদের আগের দামে অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে, কয়েকটা সবজির দাম একটু বেশি। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, জ্বালানি তেল আনতে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। যার ফলে পণ্যের ব্যয় বেড়েছে। তাই আমাদের থেকে কয়েকটা সবজির দাম বেশি রাখছে। এমনি মোটামুটি সব সবজির দাম আগের মতোই আছে। তবে, ঈদের পর এটি প্রথম শুক্রবারের বাজার হওয়ায় এখনো তেমন ক্রেতা আসেনি। হয়ত ভিড় বাড়লে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেলের দোহাই দিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। সেদিক সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।

আহমেদ রাজু নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমার বাজার করতে হয়। ঈদের আগের দিন বাজার করে নিয়ে গিয়েছিলাম। আজকে আবার এক সপ্তাহ পর এলাম। তবে, মাছ, মাংস সবজির বাজার মনে হচ্ছে ঈদের আগের দিনের দামের চেয়ে একটু কম। কারণ, তখন বাজারে অনেক চাপ ছিল। সবাই ঈদের বাজার করতে এসেছিল। এখনো মনে হচ্ছে বাজারে কম দামে সবজি পাওয়া যাচ্ছে। সামনে জ্বালানি তেলের ওপর হয়ত ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়ে দামের হেরফের করতে পারে। সেটা সরকারকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তাহলে বাজার অস্থির হবে না। ঝিগাতলা বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বলেন, ঈদের পর প্রথম সাপ্তাহিক শুক্রবারের বাজার আজকে। বাজারে তেমন ক্রেতা নেই। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি আছে। পাইকারি বাজারে সবজি কিনতে গিয়ে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী সদর উদ্দিন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে আমাদের কাঁচামাল আনতে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এক একটি কাঁচামালের ট্রাক আসতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। ট্রাক এলেও পণ্য নিয়ে কাড়াকাড়ি লেগে যায়। কেউ পণ্য পায়, কেউ অপেক্ষা করতে হয়। সব পণ্যবাহী ট্রাক এসে বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যার ফলে পাইকারি বাজারে মালামাল আনতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। সময় মতো বাজারে মালামাল আনা গেলে কোনো মালামাল নষ্ট না হয়। এতে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। না হয় পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়ে দিলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।

গোশতের দাম এখনো চড়া : বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে। যা ঈদের দুই-তিনদিন আগে থেকেই ঈদ পর্যন্ত ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা উঠেছিল। কিন্তু ওই সময়ে একইভাবে বেড়ে যাওয়া সোনালি মুরগির দাম কমেনি। এখনো বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা। অন্যদিকে, এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির গোশত। প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগেই এই দাম বেড়েছিল। আগে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় এক কেজি গরুর গোশত কেনা যেতো। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে গরুর গোশতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বেড়েছে। এখনো প্রত্যন্ত এলাকার বাজারগুলোতে গরুর আমদানি সেভাবে বাড়েনি, যে কারণে দাম কমছে না। রামপুরা বাজারের গোশত বিক্রেতা আবু জাফর বলেন, আরও কিছুদিন এই দাম থাকবে। আবার সামনে কোরবানির ঈদ। এরমধ্যে গরুর দাম যদি না কমে তাহলে হয়তো গোশতের দামও আর না-ও কমতে পারে। একইভাবে বাজারে এখন খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি দরে। যা ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে আরও ৫০-১০০ টাকা কমে কেনা যেত। তবে এখন বাজারে ফার্মের ডিমের দাম খানিকটা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম বাজারভেদে ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।