অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা : রমযান মাস মানেই সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ইফতারে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার সুন্নতি আমল। কিন্তু পবিত্র এ মাসকে ঘিরেই প্রতিবছর খেজুরের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও চলতি বছর পরিস্থিতি যেন আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে খেজুরের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় এবং প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাবে ক্ষোভ বাড়ছে ভোক্তাদের মধ্যে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, রমযান ঘিরেই দাম বাড়ার প্রবণতা সব সময় দেখা যায়। বাংলাদেশে খেজুর একটি আমদানিনির্ভর পণ্য। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, তিউনিসিয়া ও মিসর থেকে বিভিন্ন জাতের খেজুর আমদানি করা হয়। রমযানকে সামনে রেখে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আর এই বাড়তি চাহিদাকেই কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেয়- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
নওয়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বিভিন্ন জাতের খেজুরে। মাঝারি মানের খেজুর যা কিছুদিন আগে ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন ৭০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের খেজুরের দাম তো আরও বেশি।
খেজুর ক্রেতা রিফাত জানান, “প্রতিবছরই রমযান আসলেই খেজুরের দাম বাড়ে। কিন্তু এবার যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা একেবারেই অস্বাভাবিক। একই খেজুর এক দোকানে ৮০০ টাকা, আরেক দোকানে ১১০০ টাকা- কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”
আরেক ক্রেতা বলেন, “ইফতারে খেজুর তো লাগবেই। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রশাসন কি এসব দেখছে না?”
ক্রেতাদের অভিযোগ, দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানো নেই, মানভেদে স্পষ্ট শ্রেণিবিন্যাস নেই, এবং একই মানের খেজুরে দোকানভেদে দামের বড় পার্থক্য। এতে করে ক্রেতারা প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
খেজুর ব্যবসায়ীরা জানায়, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা অবশ্য ভিন্ন যুক্তি দিচ্ছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়েছে, আমদানি শুল্ক ও পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে।
নওয়াপাড়া বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছি। এখানে সিন্ডিকেটের কিছু নেই। ডলার ৮৫-৯০ টাকার সময় যে দামে আমদানি হতো, এখন সেই অবস্থা নেই।”