রাজধানীর বাজাগুলোতে এখনো পেঁয়াজের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সবজি বাজারে অস্থিরতা চলছেই। অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ টাকার উপরে। বৃদ্ধি পাওয়া অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও কমছে না। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে মনে করছে ভোক্তারা। কিন্তু সরকার এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। অবিলম্বে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, শীতকালীণ সবজিতে ভরপুর। কিন্তু দাম আকাশচুম্বী। অন্যান্য সবজির দামও বেশী। সবজি যেন দিন দিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই চলে যাচ্ছে। সাপ্লাই কম, সিজন শেষ, সিজন শুরু, বৃষ্টি...নানা কারণ দেখিয়ে সবজির বাজার হয়ে আছে আকাশছোঁয়া।

গতকাল বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় টমেটো ১৫০ টাকা, দেশি টমেটো ১৪০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৭০-৮০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, চায়না গাজর ১৩০-১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০- ৯০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা, শিম (প্রকারভেদে) ৮০- ১৮০ টাকা, শালগম ৭০ টাকা, নতুন আলু ১৫০-১৬০ টাকা, পেঁয়াজ পাতা ১০০ টাকা, পেঁয়াজ কলি ২২০ টাকা, দেশি শসা ১০০-১২০ টাকা, উচ্ছে ১২০ টাকা, করল্লা ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০-১০০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৮০ টাকা, দেশি পটল ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০-১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মূলা ৫০-৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০-৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ১৬০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৭০-৮০ টাকা, পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৭০-৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০-৭০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ব্রকলি ৮০-১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ৪০-৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতারা বলেন, পাইকাররা বলে সবজির সাপ্লাই কম চাহিদা বেশি। তাই দাম কমে না। আবার বলে হঠাৎ যেরকম বৃষ্টি হয়েছিল সেগুলোর ক্ষতি এখনও পোষাতে পারেনি। অনেক চারা নষ্ট হয়েছে। তাই দাম বেশি। আমদানি করলে নাকি দাম কমে যাবে।

এদিকে বাজার করতে আসা আমিনুল নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে। এটা কোনও কথা হতে পারে? সাধারণ মানুষের কি ক্ষমতা আছে এতো দামে কিনে খাওয়ার? এই দেশে কাউকে কিছু বলে লাভ নেই। যেই সরকারই আসুক, মরবো কেবল আমরা জনগণই। সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয় না, বাজারও নিয়ন্ত্রণ করে না।

এদিকে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের বাজারে এখনও কোনও পরিবর্তন আসেনি। সব ধরনের পেঁয়াজের দাম রয়েছে ১০০ টাকার ওপরে। বরং পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিক্রেতারা। আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। এরমধ্যে ছোট পেঁয়াজ ১১০ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে। দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা, লাল আলু ২৫ টাকা, সাদা আলু ২৫ টাকা, বগুড়ার আলু ৩৫ টাকা, দেশি রসুন ৮০-১১০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ১৮০-২০০ টাকা, ভারতীয় আদা মান ভেদে ১৬০-১৮০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

গোশতের বাজারে দেখা গেছে, বাজারে গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা কেজি দরে। খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ১,২০০ টাকা কেজি দরে। বয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকা, কক মুরগি ২৪৫-২৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১১০-১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১০৫-১১৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দেখা গেছে, আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ ১,০০০-২,৮০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৩৫০- ৫৫০ টাকা, কালবাউশ ৪০০-১,০০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ১,০০০-১,৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০-১,৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-১,২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-১,০০০ টাকা, বেলে মাছ ৮০০-১,২০০ টাকা, মেনি মাছ ৬০০-৮০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০-১,২০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ১,১০০-১,৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুদি দোকানে দেখা গেছে, প্রতিকেজি প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ৯০-১৩০ টাকা, ছোট মসুরের ডাল ১৫৫ টাকা, মোটা মসুরের ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা মাসকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১,৪৫০-১,৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১,২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা, খোলা চিনি ৯৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৩০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচি ৪৭৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১২৮০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।