মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : ভরা মৌসুমেও মাধবদীর বাজারে শীতকালীন সবজির দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। প্রতিদিনই বাজারে নতুন নতুন সবজির সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু বাজার দর কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। নরসিংদীর মাধবদী ও এর আশপাশের বাজার ঘুরে দেখা গেছে- বেগুন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি থেকে শুরু করে শালগম, গাজর, পালংশাক সহ বেশিরভাগ সবজির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।
বিক্রেতাদের দাবি, গত অক্টোবরে অস্বাভাবিক বৃষ্টি সারাদেশের শীতকালীন সবজি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অনেক জায়গায় জমি তলিয়ে গেছে, চারা নষ্ট হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও আগাম সবজির ক্ষতি হয়েছে। ফলে মৌসুমের প্রথম দিকে যেমন সবজির সরবরাহ বাড়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হয়নি। উৎপাদক পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। মাধবদী বাজারের সবজি বিক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি সব গুলিয়ে দিয়েছে। অনেক চাষি আবার নতুন করে রোপণ করেছেন। তাই সরবরাহ বাড়লেও তা এত বেশি নয় যে দাম কমে যাবে। এখনো স্থানীয় পর্যায়েও দাম চড়া।’ এরই মধ্যে শীতের সবজি বাজার পুরোপুরি নানান পণ্যে ভরপুর। টমেটো, গাজর, শিম, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, কুমড়া- সবই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দামে কোনো স্বস্তি নেই ক্রেতাদের।
মাধবদী বাজারে সবজি কিনতে আসা মকবুল হোসেন বলেন, ‘শীতের সবজি এসেছে প্রায় এক মাস হলো। অন্যান্য বছর এই সময়ে দাম অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু এবার উল্টো-সবজির দাম কমার বদলে মনে হচ্ছে আরো বাড়বে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব। উৎপাদন ব্যাহত ও ফসল নষ্ট হওয়া। নতুন করে চাষ শুরু করায় সরবরাহ চক্র দেরি হওয়া।পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। মধ্যস্বত্বভোগী ধাপের সংখ্যা বেশি হওয়া, ইত্যাদি। তারা মনে করেন, সরকারের উচিত মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সরাসরি বাজারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং সবজি সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আধুনিক সুবিধা বাড়ানো। তাহলে উৎপাদন সামান্য কমলেও দাম এতটা বাড়বে না।