আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে কুরবানির পশু বিক্রয় ও ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পশুর হাটগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে। এবারেও রাজশাহী অঞ্চলে দেশি গরুই ক্রেতাদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। পশুর পর্যাপ্ত মওজুদও রয়েছে। ফলে ভারত থেকে গরু আমদানির আর প্রয়োজন পড়বে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলায় এবার মোট কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার পশু বেশি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় ঈদকে কেন্দ্র করে কুরবানির পশুর সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। সূত্রে জানা গেছে, কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ছাগল। এরপর রয়েছে গরু, ভেড়া ও মহিষ। একসময় সীমান্তবর্তী রাজশাহী অঞ্চলের কুরবানির হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। বছরের পর বছর ভারত থেকে গরু আসায় স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল পালনে আগ্রহ কমে যায়। তবে গত কয়েক বছরে সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে ভারতীয় গরুর প্রবেশ বন্ধ হওয়ায় আবারো স্থানীয় খামারিদের আগ্রহ বেড়েছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে রাজশাহী বিভাগের প্রায় সব জেলাতেই গৃহকেন্দ্রিক ও বাণিজ্যিকভাবে গরু-ছাগল পালন করা হচ্ছে। অনেকে নতুন করে খামার গড়ে তুলেছেন। ফলে কুরবানির জন্য বাইরের পশুর ওপর নির্ভরশীলতা প্রায় নেই বললেই চলে। খামারকে কেন্দ্র করে বেড়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই তারা পশু মোটাতাজাকরণ, পরিচর্যা ও বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবার প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। একজন খামারি বলেন, এবার তারা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করা হয়েছে। তবে খরচও বেড়েছে। তাই বাজারে যেন ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় সেটাই প্রত্যাশা। আরেক খামারি বলেন, বাড়িতেই এখন ছোট পরিসরে খামারের মতো করে পশু পালন হয়। কুরবানির হাটকে সামনে রেখে ছয় মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়। এবার তার ছয়টি ষাঁড় গরু রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। তবে আশা করা হচ্ছে ভালো দাম পাওয়া যাবে। খামারিদের কেউ কেউ বলছেন, তারা কুরবানিকে কেন্দ্র করেই গরু লালন-পালন করে থাকেন। তাদের প্রত্যাশা, পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, যেন আগের মতো এবারও ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করতে না পারে। তাহলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন। এদিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার রাজশাহী অঞ্চলে পশুর উৎপাদন সন্তোষজনক। খামারিদের প্রশিক্ষণ, রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ফলে বাজারে সুস্থ ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। তারা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে দেশীয় পশু দিয়েই কুরবানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবারও চাহিদার তুলনায় বাড়তি পশু রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও পশুচিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, এবার এই অঞ্চলের খামারিরা লাভবান হবেন।