কবির আহমদ, সিলেট ব্যুরো
পবিত্র মাহে রমযানের ৪র্থ দিনেও সিলেটে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল। বাজার মনিটরিং এর জন্য সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫টি টিম কাজ করে যাচ্ছে নিয়মিত। এরপরেও সিলেটের পাইকারী ও খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেন বেড়েই চলছে। এ যেন বাজার দরের পাগলা ঘোড়া ছুটছেই।
সিলেটে নিত্য পণ্যের দামে পরিলক্ষিত হচ্ছে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছ ও মোরগের দাম। গরুর গোস্ত, তরি-তরকারীসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তির দিকে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। গতকাল রোববার সিলেটের বৃহত্তর পিয়াজ, রসুন ও তেলের আড়ৎ কালীঘাট এবং সোবহানীঘাটস্থত সবজি বাজার ও কাজিরবাজারের মাছের আড়ৎ ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।
বাজারে দেশি মাছের তীব্র সংকট রয়েছে। বাজার অনেকটা নির্ভর হয়ে পড়েছে ফিশারীর মাছের ওপর। বাজারে কিছু দেশি মাছ পাওয়া গেলেও দাম আকাশচুম্বী। গরুর, খাসি, মুরগি ও মাছের দোকানগুলো আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। নগরীর লালবাজার, আম্বরখানা, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট, সুবিদ বাজার ও কাজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গোস্ত ও মাছের দাম রমযানকে সামনে রেখে ব্যাপক হারে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি রমযানের শুরুতে গোস্তের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকারভেদে সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী।
নগরীর বৃহত্তম লালবাজার ঘুরে দেখা যায়, চাহিদা থাকলেও বাজারে মাছ উঠেছে কম। দেশি প্রতি কেজি টেংরা (বড়) ৭০০-৮০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ও শোল মাছ প্রতি কেজি ১২০০ টাকা, ইলিশ ১২০০-১৮০০ টাকা এবং বাইম প্রতি কেজি ১৫০০-১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা, রুই ৪৫০-৬০০ টাকা এবং কার্ফু প্রতি কেজি ৩০০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
লালা বাজারে মাছ কিনতে আসা মুমিন মিয়া জানান, সপ্তাহখানেক আগেও তিনি রুই মাছ ৩শ’ টাকা দরে ক্রয় করেছেন। কিন্তু, বুধবার তিনি ফার্মের রুই মাছ ৪৫০ টাকা দরে কিনেছেন। এছাড়া, হাওরের রুই মাছের দাম হাঁকা হচ্ছে ৬শ’ টাকা দরে। একই বাজারের মাছ বিক্রেতা রশিদ মিয়া জানান, ২/৩ দিন আগেও মাছের দাম অনেক কম ছিল। গত মঙ্গলবার থেকে মাছের দাম কেজি প্রতি ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
সিলেটের সর্ববৃহৎ মাছের আড়ৎ কাজির বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বেলাল আহমদ জানান, বাজারে যোগান কম থাকায় দেশী মাছের দাম বেশি। তাদেরকে বেশি দামে মাছ কিনতে হয় বলেই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে। বাজারে মোরগের দামও বেড়ে গেছে। সোনালি মোরগের কেজি গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩২০ টাকা কেজি দরে। গত বুধবার সোনালি মোরগের দাম কেজি প্রতি ৪০ টাকা বেড়ে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রির। ব্রয়লার মোরগ ১৬৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়ে গেছে ১৯০ টাকা কেজি। দক্ষিণ সুরমার রেলগেইটের রাব্বি পোল্টি ফার্মের স্বত্বাধিকার রাব্বি আহমদ জানান, সোনালি মোরগ গত বুধবার তিনি ৩৩০ টাকা দরে কিনেছেন। যে কারণে তাকে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারে দেশী মোরগের দাম আকাশছোঁয়া। ৪শ’-৫শ’ গ্রাম ওজনের প্রতিটি মোরগ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’-৬শ’ টাকা দরে। আগে এ ধরণের একটি মোরগের মূল্য ছিল ৩৫০ টাকা। এছাড়া, গরুর গোস্ত বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহে আগেও গরুর গোস্তের দাম ছিল ৭৫০ টাকা।
নগরীর বন্দরবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে লেবু। সবজির মধ্যে বেশি বেড়েছে লেবু, কাঁচা মরিচ ও শশার দাম। লেবুর হালি ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচও ১৫০-২০০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকার কমে শশাও মিলছে না। রমযান উপলক্ষে প্রতিটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে ক্রেতারা জানান।
অন্যদিকে রমযান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী সংশ্লিষ্ট পণ্যেরও দাম বেড়েছে। আকার অনুযায়ী এক গুচ্ছ কলার দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আপেল ও কমলার দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৪০/৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি দামের ঊর্ধ্বগতি খুচরা বিক্রয়েও প্রভাব ফেলছে।
বাজার অস্থিতিশীলতার ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা রাফিন সরকার বলেন, ব্যবসায়ীদের রমযানে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন গণমাধ্যমকে, রমযানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ৫ জন এডিসি’র নেতৃত্বে ৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। এতে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।