খুলনায় কমেছে আলু পেঁয়াজ রসুনের দাম। তবে বেসামাল চাল ডাল ব্রয়লার মুরগি ও ভোজ্য সয়াবিনের বাজার। লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও পণ্য সামগ্রীর দাম। কেজি প্রতি চালের মূল্য ৫/৬ টাকা, মশুর ডাল ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ভোজ্য সয়াবিন তেল লিটার প্রতি বেড়েছে ১৬ টাকা। সবমিলিয়ে ষাট টাকার নিচে মিলছে না অধিকাংশ সবজি। বাজার দর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভোক্তারা। দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।

শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ তিন কেজি ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ লালচে বর্ণের (বড় সাইজ) চার কেজি ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, কুশি ৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ দুইমাস আগে প্রতিকেজি বেগুন ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, উচ্ছে ৫০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, কুশি ৪০ টাকা, দেশি রসুন ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, চায়না রসুন ১৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, গাজর ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারগুলোতে বোতলজাত ভোজ্য সয়াবিন লিটার প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। অথচ দুই মাস আগে ভোজ্য সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ভোজ্য সয়াবিন তেল ফ্রেশ, তীর, বসুন্ধরা পাঁচ লিটার বিক্রি হয়েছে এক হাজার টাকা। দুইমাস আগে যা বিক্রি হয়েছে ৯২০ টাকা দরে। ভোজ্য সয়াবিন তেলের মূল্য লিটার প্রতি বেড়েছে ১৬ টাকা। কোনভাবে কমছে এ পণ্যটির মূল্য। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের এ পণ্যটি কিনতে গেলে হিমশিম খেতে হয়। লুজ সয়াবিন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা।

কোনভাবে কমছে না মশুর ডালের দাম। প্রতিকেজি মশুর ডাল (মোটা) ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, মশুর ডাল (সরু) ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। চার মাস আগে প্রতিকেজি মশুর ডাল (মোটা) ৮০ টাকা, মশুর ডাল (সরু) ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে ৫৫ টাকার নিচে মিলছে না মোটা চাল। নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মানভেদে আঠাশ বালাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মিনিকেট ৮০ টাকা, মিনিকেট নিম্ন মানের ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ও বাসমতি ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

উর্ধ্বমুখি হয়ে উঠেছে মুরগির বাজার। কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ ব্রয়লারের মূল্য কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। অথচ দুই সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা। নগরীর ট্রাফিক মোড়স্থ রূপসা কেসিসি সুপার মার্কেটের আয়শা পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্তাধিকারী মো. বাশার বলেন, মুরগির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ দেড় মাস আগে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, কক মুরগি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বছরের পর বছর অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর গোশের বাজার। তবে নগরীর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রতিকেজি গরুর গোশত কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। আবার বিভিন্ন উৎসবে কতিপয় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী গরুর গোশত বাড়তি দামে বিক্রি করেন। এসময় প্রতিকেজি গরুর গোশত বিক্রি হয় ৮০০ টাকা।

নগরীর ময়লাপোতা মোড়স্থ কেসিসি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ তরিতরকারির দাম বেড়েছে। জ্বালানী তেলের দাম বাড়তি থাকায় ট্রাকের ভাড়া বেছে। একারণে তরকারি বাজার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাড়তি দাম। নগরীর ময়লাপোতা মোড়স্থ কেসিসি সুপার মার্কেটে আসা ক্রেতা মো. আব্দুল হালিম বলেন, বাজার দর মনিটরিং ব্যবস্থা ঝিমিয়ে পড়ায় ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি লাভের জন্য ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে দিয়ে কৌশলে পকেট কাটছেন ভোক্তাদের।