বাজারে এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, শালগম, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। দিনদিন সবজির সরবরাহও বাড়ছে। তবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় সবজির দাম এখনো বেশি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আজকের বাজারে প্রতিপিস ফুলকপি (মাঝারি) বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, বাঁধা কপিও (মাঝারি) প্রতি পিস ৪০ টাকা, এ ছাড়া প্রতি কেজি বেগুন (গোল) ৮০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শালগম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, নতুন আলু প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে উৎপাদন এলাকাতেই সবজির দাম বেশি। কারণ, কৃষকেরা আগাম চাষ করা নতুন সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন। এ ছাড়া গত অক্টোবর মাসে বৃষ্টির কারণে কৃষকদের কিছু সবজি নষ্ট হয়েছিল। ফলে এখন বেশি দামে বিক্রি করে সেই আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। এসব কারণে ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারেও সবজির দাম বেশি। বাজারে এখন প্রতি কেজি পুরোনো পেঁয়াজের দাম ১০০-১২০ টাকা। এক মাস ধরে এ দামেই খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রাখতে পণ্যটি আমদানির দাবি জানিয়ে আসছিলেন আমদানিকারকেরা। বর্তমানে দেশি পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। এ বছর দীর্ঘ সময় ১৮-২০ টাকা দরে আলু বিক্রি হয়েছে। মাসখানেক হয় আলুর দাম কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০-৩০০ টাকা ও প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। দামের এই পতনের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, বয়লার, কক, লেয়ার-সব ধরনের মুরগির দামই কমেছে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, দামের সঙ্গে বেচাকেনাও কমে গেছে। মানুষ মনে হয় দাম বাড়লে বেশি করে কিনে-মনে হয় স্বাদও বাড়ে তখন।