সদ্যসমাপ্ত বছরে বাজারে নানা রকম অস্থিরতা থাকলেও নতুন বছরের শুরুতে চট্টগ্রামের ভোক্তারা সবজি ও ডিম-মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে মাছ-গোশত, চাল ও বেশ কয়েকটি মুদিপণ্যের উচ্চমূল্য এখনও সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে রেখেছে।

বছরের দ্বিতীয় দিন গতকাল (২ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাজির দেউড়ি বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মূলা কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো, শিম ও শালগমের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাঁকরোল, দেশি পটল, গাজর, শসা, করলা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, কচুর লতি ও কচুরমুখী, লাউ ও চালকুমড়া কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়, আর পুরোনো আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায়। পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। লাল শাক, পালং শাকসহ অন্যান্য শীতকালীন শাক প্রতিআঁটি ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ডিম ও মুরগির বাজারেও গত এক মাসের বেশি সময় ধরে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ব্রয়লার মুরগির লাল ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকা, সাদা ডিম ১০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৬০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি হাঁস কেজিতে ৩৫০ টাকা ও চীনা হাঁস ৭০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

পেঁয়াজের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে ৭০ টাকা এবং নতুন দেশী পেঁয়াজ আকারভেদে ৮০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সামুদ্রিক মাছের ভর মৌসুম চললেও দামে তেমন স্বস্তি নেই। কোরাল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, লাল পোয়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সাদা পোয়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, আইড় ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং রূপচাঁদা ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাগরের ছোট চিংড়ি তুলনামূলক কমে কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা হলেও বড় চিংড়ির দাম রয়েছে প্রায় ৮০০ টাকা। দেশি মাছের মধ্যে রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

চালের বাজারেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। সরু বা মিনিকেট চাল কেজিতে ৭৮ থেকে ৮২ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। মাঝারি চাল (ব্রি-২৮ ও পাইজাম) ৬০ থেকে ৬৬ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা চাল ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদিপণ্যের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৮ টাকা, খোলা তেল ১৭২ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট মসুর ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ৯০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ থেকে ১৪৫ টাকা, খেসারি ডাল ৯০ টাকা ও বুটের ডাল ৬০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা, খোলা চিনি ৯৫ টাকা। দুই কেজি আটা ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং ময়দা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৌটাজাত ঘি ১৪৫০ থেকে ১৫৫০ টাকা এবং খোলা ঘি ১২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতে সবজি ও ডিম-মুরগির দামে স্বস্তি ফিরলেও মাছ-মাংস, চাল ও কয়েকটি নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ভোক্তাদের স্বস্তি পুরোপুরি ফেরাতে পারেনি।