৩৫৫৯টি অভিযানে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার তেল উদ্ধার
মজুত ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন আরো ২ লাখ ৬০ হাজার টন আমদানির অনুমোদন
দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই : মন্ত্রণালয়
দেশে জ্বালানির দাম বাড়ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি বিভাগ। এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে না বলে গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের স্বাক্ষরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত) আলোকে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের (ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল) মূল্য পুনর্র্নিধারণ/সমন্বয় বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হলো।
এতে জানানো হয়, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত)’ আলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য ১০০ টাকা লিটার, অকটেন ১২০ টাকা লিটার, পেট্রোল ১১৬ টাকা লিটার এবং কেরোসিন ১১২ টাকা লিটারে অপরিবর্তিত রেখে নির্ধারণ ও অনুমোদন করা হয়েছে, যা বুধবার থেকে কার্যকর থাকবে।
দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই : মন্ত্রণালয়
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে এপ্রিল মাসেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ।
তিনি বলেছেন, মার্চ মাসে যেমনভাবে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে, এপ্রিল মাসেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ কমবে না। জনগণ স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ক্রয় করলে কোনো সমস্যা হবে না।
জনগণকে অপ্রয়োজনীয় মজুত ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার দিনরাত কাজ করছে যাতে জ্বালানি খাতে কোনো সমস্যা না হয়। সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে আগামী মাসগুলোতেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহে সরকার-টু-সরকার এবং উন্মুক্ত দরপত্রÍউভয় পদ্ধতিই চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, সরবরাহ চেইন সচল রাখতে আমরা অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি ও ক্রয় কমিটিতে একাধিক প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, এ ধরনের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তবে সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এখনও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একে ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কজনিত ক্রয়ের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এলপিজি সরবরাহ নিয়েও আশ্বস্ত করে তিনি জানান, মার্চ মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৪ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যেখানে গড় মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন। ফলে এ ক্ষেত্রেও কোনো ঘাটতি নেই।
এলএনজি সরবরাহ নিয়েও মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকল্প উৎস থেকে আমদানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেশনিং ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর কাজ চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে শিগগিরই কয়েকটি স্থানে এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি কিছু জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
ডিজেলের মজুত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় দুইভাবে হিসাব করেÍব্যবহারযোগ্য মজুত এবং ‘ডেড স্টক’সহ মোট মজুত। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মোট মজুত হিসাবের ভিত্তিতে, আর তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ অংশ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়। ফলে তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
মজুতদারির বিষয়ে তিনি বলেন, কে কী উদ্দেশ্যে মজুত করছে তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবে। তবে সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন
সারাদেশে অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধারে সরকারের চলমান অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ৩০ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে মোট ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার, অকটেন ৬৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার। আর দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।
যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।
তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতিও বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
যুগ্মসচিব বলেন, এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিন সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তিকে দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
৩৫৫৯টি অভিযানে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার
চলমান অভিযানের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৩৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ১২৪৪টি মামলা দায়ের এবং ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জনকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। চলমান অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রোল ৬০ হাজার ২ লিটার।
বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি তদারকিতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারদের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়বে।
জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় মজুত বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল (ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলসহ) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
মঙ্গলবার অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) এবং সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় তিনটি বড় আমদানির প্রস্তাবে সবুজ সংকেত পেয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
এছাড়া, জিটুজি কাঠামোর আওতায় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানি পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জ্যাপিন (বিএসপি জ্যাপিন) থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সালফারযুক্ত গ্যাস অয়েল আমদানি করা হবে। পাশাপাশি ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফারযুক্ত ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ ৮ দফা দাবি
ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের প্রধান কর্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব দাবি জানান অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
অ্যাসোসিয়েশনের অন্য ৬টি দাবি হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে; পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে ক্রেতাদের হুমড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে; পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে; উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে; ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরির চেম্বারের ধারণ ক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে। আর তা নাহলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, অযথা পেট্রোল পাম্প আক্রমণ, পেট্রোলপাম্প মালিকদের উপর একতরফা দোষ চাপানো যাবে না। সেক্ষেত্রে সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে এক ধরনের অস্থিরতা ও বিভীষিকাময় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আদেশ-নির্দেশ ও তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা নাভিশ্বাস অবস্থায় আছি।
সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে দেশে বর্তমানে তেলের যে মজুত রয়েছে, তা দিয়ে সংকট মোকাবিলা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা একটি সাময়িক সমস্যা, যা কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় যদি সবাই নিজের গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামেন, তাহলে সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। একজনের অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে অন্যজন জরুরি প্রয়োজনেও এক লিটার তেল নাও পেতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে কেনার প্রবণতা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করা কিংবা পাম্পে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ঠিক নয়। কারণ ব্যক্তিগতভাবে তেল সংগ্রহ করলে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণে জীবন বিপন্ন হতে পারে।