দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জ্বালানি লোডিং হচ্ছে। এদিন বিকালে সব প্রস্তুতি শেষে প্রথম ইউনিটে শুরু হতে যাচ্ছে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি কী এই ইউরেনিয়াম? কীভাবে এই ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়? ইউরেনিয়াম মূলত একটি খনিজ। এটি কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাতে পর পারমাণবিক জ্বালানিতে রূপান্তর করা হয়।

এই জ্বালানি ছোট ছোট ট্যাবলেটের মতো তৈরি করা হয়। এগুলোকে বলা হয় প্যালেট। প্রতিটি প্যালেট পেন্সিলের রাবারের মতো ছোট। প্রায় ১২ ফুট লম্বা ধাতব নলের ভেতরে এসব প্যালেট সাজানো হয়। এই নলকে বলা হয় ফুয়েল ক্ল্যাডিং।

নলের দুই মাথা সিল করে ফুয়েল রড তৈরি করা হয়। এরপর ১০০ থেকে ৩০০টি ফুয়েল রড একসঙ্গে বর্গাকারে সাজিয়ে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি করা হয়। তবে রিঅ্যাক্টরের (চুল্লি) ধরন ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে কতগুলো রড লাগবে।

ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লম্বায় প্রায় ১২ ফুট হয়। আর চওড়া এক ফুটেরও কম হয়। এগুলো রিঅ্যাক্টরে বসানো হয়। একটি রিঅ্যাক্টর কোরে সাধারণত ১৫০ থেকে ২৫০টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি থাকে।

পারমাণবিক জ্বালানিতে ইউ-২৩৫ নামে ইউরেনিয়ামের বিশেষ একটি রূপ ব্যবহার করা হয়। ইউ-২৩৫ ইউরেনিয়ামের একটি আইসোটোপ। ইউরেনিয়ামকে জ্বালানিতে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে সমৃদ্ধকরণ। রিঅ্যাক্টরের ভেতরে ইউ-২৩৫ পরমাণুকে বিভাজন করে নিউট্রন। এতে নতুন পরমাণু এবং আরও কিছু নিউট্রন তৈরি হয়।

নতুন এই নিউট্রন অন্য ইউ-২৩৫ পরমাণুকে বিভাজিত করে। এভাবে চলতে থাকে বিক্রিয়া। ইউ-২৩৫ পরমাণু বিভাজিত হয়ে তাপ আকারে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ দিয়ে পানির বাষ্প তৈরি হয়। এরপর সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।