ভারতীয় কোম্পানি আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) যুব সংসদ। এটিসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে তারা। দাবিগুলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া রাজনৈতিক দল-প্রার্থীদের ইশতেহারে যুক্ত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যাবের যুব সংসদ এই আহ্বান জানায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশীন জাহান তাকিয়া। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরিত্র রোদ্দুর ধর, আশিকুল ইসলাম, সাদমান সাকিব, সাবাত মোস্তফা প্রথন ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তালহা বিন ইমরান। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে গণশুনানির ভিত্তিতে স্থলভাগের শতভাগ গ্যাস বাপেক্সসহ দেশীয় কোম্পানি দ্বারা শতভাগ অনুসন্ধান-উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে। গণশুনানির ভিত্তিতে ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বিভিন্ন চুক্তির কারণে রাষ্ট্রের যত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট দুর্নীতিসহ অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার করতে হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ক্যাবের যুব সংসদ প্রত্যাশা করে, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য এই সংগঠন প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪-এর আলোকে আসন্ন নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী অংশ নিচ্ছে, তারা জাতীয় স্বার্থে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত ১৩ দফা দাবি বিবেচনায় নেবে।

১৩ দফা সংস্কার : জ্বালানি খাত সংস্কারের এই দাবিগুলো মধ্যে আছে বিদ্যুৎসহ জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি বিশেষ বিধান আইন রহিতকরণ-সংক্রান্ত ক্যাবের রিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা। এই আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি-লাইসেন্স বাতিল করা। সব ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা। বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে আবার সেবা খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ খরচভিত্তিক নিশ্চিত করা।

জ্বালানি দক্ষতা-সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি আগামী সরকারের মেয়াদে কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমানো। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত বৃদ্ধির মাধ্যমে এই পাঁচ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো। ছোট শিল্প হিসেবে এই বিদ্যুৎ (সৌরবিদ্যুৎ) উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি পাঁচ বছরের জন্য রহিত করা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি নিষিদ্ধ করা।