- শিল্প-কারখানাগুলোর টিকে থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যবসায়ীদের
বিদ্যুতের দাম নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির দেয়া প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসি গণশুনানি শেষ করার পর এবার আলোচনায় এসেছে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়। প্রস্তাবিত দাম নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
কারিগরি কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যলোচনা চলমান রয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজাহার পর পরই এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তারপর পরই বিদ্যুতে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে। ঈদের সরকারি ছুটি হতে বাকি আছে আর দুদিন। এই দুই দিন বিইআরসি কাজ করবে এ নিয়ে। সে হিসেবে ঈদের আগে না হলেও ঈদের পরে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর একটা শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিইআরসি সংশ্লিষ্টরা।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশন গণশুনানিতে উপস্থাপিত সব পক্ষের মতামত ও যুক্তি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।
বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও ভোক্তা অধিকার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলেছেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে।
বিদ্যুতখাতের অপচয়, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস না কমিয়ে দাম বাড়ানোর উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। তারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো আঘাত করবে।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত এক গণশুনানিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পৃথকভাবে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১.২০ টাকা থেকে ১.৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, দাম সমন্বয় করা না হলে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ঘাটতি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে।
শুনানিতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি জানায়, প্রস্তাবিত মূল্য সমন্বয় করা হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমবে।
কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯৫,৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির বিপরীতে সবকটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সম্মিলিত নিট রাজস্বের প্রয়োজন হবে ১,১৯,২৮৫ কোটি টাকা। তবে সিস্টেমে দক্ষতার ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতির পূর্বাভাস দিয়ে কমিটি জানিয়েছে, সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ অপচয় (সিস্টেম লস) ২০২৫ অর্থবছরের ৭.৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৩৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
কমিটি ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের ক্যাটাগরি ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য স্তর বা স্ল্যাব কাঠামো বজায় রাখার সুপারিশ করেছে। কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি নিচের দিকের স্ল্যাবগুলোকে একটি বৃহত্তর ক্যাটাগরিতে একীভূত করার একটি প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে, কারণ এর ফলে প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারত।
ক্রমবর্ধমান ঘাটতি এবং পাইকারি মূল্যের চাপ
পিডিবি জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট খরচ ১,৪৩,১০৮ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১২.৯১ টাকা। বিদ্যমান মূল্য কাঠামো অনুযায়ী রাজস্ব আদায় অনেক কম হবে, যা বিদ্যুৎ খাতে একটি বিশাল ঘাটতি তৈরি করবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি জানায়, দাম প্রতি ইউনিটে ১.২০ টাকা বাড়ানো হলে মাসিক লোকসান ১,৩২৯ কোটি টাকা কমবে এবং ১.৫০ টাকা বাড়ানো হলে এই ঘাটতি ১,৬৬৬ কোটি টাকা কমে আসবে। এই মূল্য সমন্বয় অনুমোদিত হলে সরকারের ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১.২৯ টাকা থেকে ১.৬১ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে অংশীজনরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, দাম বাড়ানো হলে তা সাধারণ পরিবার ও শিল্প-কারখানার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
ক্রমবর্ধমান আর্থিক লোকসানের কথা উল্লেখ করে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। এর মধ্যে ডেসকো ৯.৬৭ শতাংশ এবং ডিপিডিসি ৬.৯৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
অংশীজনদের তীব্র বিরোধিতা
বিদ্যুৎ খাতের অপচয়, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস না কমিয়ে দাম বাড়ানোর উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংস্থাগুলো। তারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো আঘাত করবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং এটি শিল্প খাতে একটি নেতিবাচক চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রভাব তৈরি করবে, যার ফলে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য আরও বেশি টাকা গুনতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে সরকার হয়তো এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে, তবে বিদ্যুৎ খাতের গভীরে জেঁকে বসা দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অপচয় এবং পরিচালনগত অদক্ষতা দূর না করে-রাষ্ট্র বারবার এই খরচের বোঝা সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
শিল্প-কারখানাগুলোর টিকে থাকার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তিনি উল্লেখ করেন যে, কারখানাগুলো ইতোমধ্যেই বিদ্যুতের নি¤œমানের সেবা এবং ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে ভুগছে, যা তাদের মূল্যবান ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি নষ্ট করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করে দাম বাড়ানো হলে কম মুনাফা করা ধুঁকতে থাকা কারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি যোগ করেন।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি কৃষি, পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোতে বাড়তি খরচের চাপ তৈরি করবে। এর ফলে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে, যাদের আয়ও কিন্তু মূল্যস্ফীতির সাথে সংগতি রেখে বাড়েনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মোশাহিদা সুলতানা প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিবছর ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হলেও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা করা হচ্ছে না। তিনি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে ‘দাম কমানোর রূপরেখা’ নিয়ে আলাদা গণশুনানির দাবি জানান।
গণশুনানির এক পর্যায়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ এখন বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে ভর্তুকির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। এটি জাতির জন্য ক্ষতির কারণ। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোর ফিন্যানশিয়াল অডিটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ‘নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতেই এই মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে কম্পানিগুলো অনেক টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে এসেছে, যেগুলো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিলে কী পরিমাণ দাম বাড়িয়ে তা সমন্বয় করতে হবে, এমন একটি বিশ্লেষণ দরকার। সে জন্য বিইআরসি আইনের পরিবর্তন দরকার। বিদ্যুৎ জনগণের অধিকার, তাই এটিকে বাণিজ্যিক খাতে বিবেচনা না করে সেবা খাত হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক জেবুন্নেসা বলেন, ‘বিতরণ কম্পানিগুলোর সিস্টেম লস বন্ধ করা বিইআরসির কাজ নয়। অবৈধ সংযোগের কারণে যে লোকসান হয় সেটা সংশ্লিষ্ট বিতরণ কম্পানিকেই বন্ধ করতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ না হলে দাম বাড়ানো আর বন্ধ হবে না।’
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুতের মতো একটি ভর্তুকিনির্ভর খাতে বিভিন্ন রকম ট্যাক্স রয়েছে। এই শুল্ক কমিয়েও খরচ অনেক কমানো যায়। দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা এত উন্নত হয়ে যায়নি যে লাইফলাইন স্ল্যাব তুলে নিতে হবে। পল্লী বিদ্যুতের লাভজনক সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে লোকসানি সমিতিগুলো চলে। সেখানে লাভজনক সমিতি আলাদা করাটা দুরভিসন্ধিমূলক। এসব কিছু বিবেচনায় এই প্রস্তাব বাদ দিয়ে নতুন প্রস্তাব নিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিইআরসির কাছে সাত দফা দাবি দিয়েছে। সংগঠনটি স্টিল শিল্পে বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখা, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট কমানো, পাওয়ার ফ্যাক্টর চার্জ পুনর্বিবেচনা, ক্যাপাসিটি চার্জ প্রত্যাহার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ভারী শিল্পের জন্য বিশেষ ট্যারিফ চালু এবং সিকিউরিটি মানির বিপরীতে সুদ বা বিল সমন্বয়ের সুবিধা চেয়েছে। বিএসএমএ বলেছে, বিদ্যুতের ব্যয় বাড়লে শিল্প খাত, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিইআরসির আইনে কি আছে
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আইন অনুযায়ী শুনানি শেষে কমিশনের হাতে ৬০ দিন সময় থাকে। এই সময়ের মধ্যে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত, যুক্তি ও আপত্তি বিশ্লেষণ করে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়বে কিনা এবং বাড়লেও তা কতটা হবে।
গ্রামে বিদ্যুতের ভারসাম্য ভাঙার আশঙ্কা
আরইবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বাইরে গ্রাহক নিজেই ভর্তুকি দেয়। যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তারা বাড়তি দামে বিদ্যুৎ বিল দেয়। আবাসিকে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে প্রতি ইউনিটের দাম ১৪ টাকা ৬১ পয়সা। তার মানে, পিডিবির উৎপাদন খরচ সাড়ে ১২ টাকার চেয়ে বাড়তি দাম দেয় এসব গ্রাহক। এই বাড়তি দামই কম ব্যবহারকারীদের জন্য ভর্তুকি হিসেবে যায়। একইভাবে আরইবির ২১টি সমিতির বাড়তি আয় থেকে অন্য সমিতিগুলোকে ভর্তুকি দেওয়া হয়। এটি ‘ক্রস সাবসিডি’ নামে পরিচিত, যা ভারসাম্য তৈরি করে।