২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট আজ (রোববার) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিতব্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

উপদেষ্টা পরিষদে বাজেট পাসের পর এটি অধ্যাদেশ আকারে প্রকাশ করা হবে। চলতি বছরের বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি সোনার আঙটি ক্রয়, কর্নিয়া স্থাপনসহ ৫ শতাংশ হারে যেসব খাতে কর ছিল, সেগুলো থেকেও কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট, নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ এবং অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। এদের মধ্যে অর্থ অধ্যাদেশ ব্যতীত বাকি দুটি প্রস্তাব এরই মধ্যে ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ করেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বাকি।

এর আগে গত ২ জুন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ উপদেষ্টা। চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে জিডিপির ৩.৬ শতাংশ, যা দেশি ও বিদেশি ঋণের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মোট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে প্রকাশিত সম্পূরক বাজেট বিবরণ অনুযায়ী, ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু অর্থ বিভাগের চাহিদা ১ লাখ ৪ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা, যা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তুলনায় সর্বাধিক।

বাকি ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কিছুতে বরাদ্দ কমেছে, কিছুতে তা অপরিবর্তিত রয়েছে।