প্রথম স্বামীকে সামাজিক মাধ্যমে তালাক দেওয়ার এক বছরের মাথায় আবারও আলোচনায় এলেন দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা বিনতে মোহাম্মদ রাশেদ আল মাকতুম। এবার তিনি বাগদান সম্পন্ন করেছেন মার্কিন র্যাপার ফ্রেঞ্চ মন্টানার (আসল নাম করিম খারবুচ) সঙ্গে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত জুনে প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহে ‘৩. প্যারাডাইস’ ব্র্যান্ডের র্যাম্পে হাঁটার সময় মন্টানা মাহরাকে আংটি পরিয়ে দেন।
৩১ বছর বয়সী শেখা মাহরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুমের কন্যা। তাঁর মা গ্রিক সমাজকর্মী জোয়ে গ্রিগোরাকোস। জন্মের পর নাম ছিল ক্রিস্টিনা, পরে ইসলাম গ্রহণ করে মাহরা নাম ধারণ করেন। মানবিক কাজ, ফ্যাশন ও ঘোড়দৌড়ের প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বেশ সক্রিয়।
যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ব্যবসায় নামেন। ২০২৪ সালে চালু করেন নিজের পারফিউম ব্র্যান্ড ‘মাহরা এম১’। ওই ব্র্যান্ডের প্রথম পারফিউম ‘ডিভোর্স’ বাজারে আসে একই সময়, যখন তাঁর দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যায়।
২০২৩ সালের এপ্রিলে মাহরা বিয়ে করেছিলেন আমিরাতের ব্যবসায়ী শেখ মানা বিন মোহাম্মদ বিন রাশেদ বিন মানা আল মাকতুমকে। পরের বছর তাঁদের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে মাত্র দুই মাস পরই ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে স্বামীকে তালাক ঘোষণা করেন মাহরা। পোস্টে তিনি লেখেন, প্রিয় স্বামী, যেহেতু আপনি অন্য সঙ্গীদের নিয়ে ব্যস্ত, তাই আমি তালাক দিলাম।
মাহরার এ ঘোষণাকে ঘিরে ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যা ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কারণ শরিয়তে নারীরা সাধারণত খুলা প্রক্রিয়ায় তালাক নিতে পারেন, সরাসরি তিন তালাক ঘোষণা করা অধিকাংশ মুসলিম দেশে বৈধ নয়।
২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ফ্রেঞ্চ মন্টানা ও মাহরাকে একসঙ্গে দেখা যেতে থাকে। প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চে তাঁদের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি এবং ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘পন্ত দেস আর্টস’ সেতুতে একসঙ্গে ‘লাভ লক’ ঝোলানোও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছিল।