স্পেনের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একটি "অন্যায় ও অবৈধ যুদ্ধ" দীর্ঘায়িত করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বুধবার স্প্যানিশ কংগ্রেসে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন এবং এই হামলাগুলোকে একটি "অন্যায় ও অবৈধ যুদ্ধের" অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধের একজন সোচ্চার বিরোধী সানচেজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল "আন্তর্জাতিক আইনকে ক্ষুণ্ণ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করেছে এবং ইরাক ও লেবাননে সংঘাতকে পুনরায় উস্কে দিয়েছে।"

এই স্প্যানিশ নেতা আরও যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল "উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে এসেছে," যে দেশগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে দ্রুত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনে তার অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, "জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন প্রশাসনের আনা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে" রাশিয়া আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

এই সংঘাত জুড়ে স্পেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতায় অটল থেকেছে। তারা আন্দালুসিয়ায় অবস্থিত তাদের রোটা নৌঘাঁটি ও মোরোন বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেয়নি, যা ট্রাম্পকে এই ঘোষণা দিতে প্ররোচিত করেছে যে স্পেনের “নেতৃত্ব তেমন ভালো নয়” এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “স্পেনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার” দাবি জানিয়েছেন।

কিন্তু ট্রাম্পের সমালোচনা সানচেজকে তার নীতি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ বলেন, “মিত্র বা বন্ধু হওয়ার অর্থ হলো আমাদের অভিন্ন নীতিগুলোর প্রতি অনুগত থাকা। এর অর্থ হলো, পথ ভুল হলেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস থাকা।”

সূত্র: সিএনএন

ডিএস/এমএএইচ