পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এখন এক চরম বিনাশী রূপ নিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরানের নতুন সুপারসনিক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার।

বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের বেয়ারশেবা শহরের সোরোকা মেডিক্যাল সেন্টারে আছড়ে পড়ে একটি শক্তিশালী মিসাইল। পরে জানা যায়, এটি ছিল ইরানের সেজ্জিল-২।

এরপর থেকেই ইরানের এই নতুন সমরকৌশল ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ফোরের’-এর ৫৪তম ধাপ শুরু করে দিয়েছে।

আইআরজিসি ইসরায়েলে হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, ইসরায়েলের হাসপাতাল লক্ষ্য করেই এই নির্ভুল কৌশলগত অস্ত্রটি ছোঁড়া হয়েছিল।

বিধ্বংসী ক্ষমতার সেজ্জিল-২ দেখতে অনেকটা রঙিন আতসবাজির মতো মনে হলেও এই আল্ট্রা-হেভি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি রীতিমতো পিলে চমকানো।

ইরানের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই ব্যালিস্টিক মিসাইলটির বৈশিষ্ট্য একে করেছে ভয়ংকর পরিমাণে বিধ্বংসী, যে কিনা প্রলয়ংকারী তাণ্ডবলীলা।

‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ নামে পরিচিতি পাওয়া সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন। ইরানের এই ভয়ানক অস্ত্র মাত্র ৭ মিনিটে ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।

আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের এ সক্ষমতার কারণে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র আয়রন ডোম-এর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও বিভ্রান্ত করতে পারে।

ভয়ংকর এই মিসাইলটি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। মিসাইলটি ৭০০ থেকে ১ হাজার কেজি ওজনের পেলোড বা যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে পারে।

১৮ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১ দশমিক ২৫ মিটার ব্যাসের এই ক্ষেপণাস্ত্রটির মোট ওজন প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কিলোগ্রাম।

সূত্রমতে, ১৯৯০-এর দশকে চীনের সহায়তায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ২০০৮ সালে প্রথমবার এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়। ২০২১ সালে সামরিক মহড়ার মাধ্যমে তেহরান একে তাদের প্রধানতম সামরিক শক্তি হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।

সেজ্জিলের দু’টি সংস্করণ আছে— সেজ্জিল-১ এবং সেজ্জিল-২। প্রথমটি স্বল্পপাল্লার, দ্বিতীয়টি মাঝারিপাল্লার। রোববার সেজ্জিল-২ নিক্ষেপ করেছে ইরান।

ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে ইরান এর আগে ফাতাহ-১ হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে, যার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার।

তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন আক্রমণগুলোতে তারা আরও উন্নত সুপারসনিক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র যে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে, তা নিয়ে এখন কোনো সন্দেহ নেই।