রাশিয়া ও চীন — ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক অংশীদার দুইটি দেশ — যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের “স্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তবে শক্তিশালী বিবৃতি সত্ত্বেও তারা কোনো সামরিক সহায়তা প্রদান করছে না।

রাশিয়া ও ইরান: কৌশলগত পার্টনার, কিন্তু সামরিক জোট নয়

জানুয়ারি ২০২৫-এ মস্কো ও তেহরান একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা বাণিজ্য, সামরিক সমন্বয়, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি সহ বহু অঞ্চলে সহায়তা করার কথা বলে।

কিন্তু এই চুক্তিতে পারস্পরিক নিরাপত্তা বা সামরিক সহায়তার বাধ্যতামূলক কোনো ধারা নেই, ফলে রাশিয়ার কোনো স্বয়ংক্রিয় সমর্থন বা প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা নেই।

একজন রাশিয়ান বিদেশনীতি বিশ্লেষক বলেছেন, রাশিয়া সরাসরি লড়াইয়ে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো জটিল পরিস্থিতিতে বিপুল ঝামেলা এড়াতে চেয়ে।

চীন–ইরান সম্পর্ক এবং তাদের সীমাবদ্ধতা

চীন ও ইরানের ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা বিশেষত জ্বালানি ও বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়।

সম্পর্কটি চীন দেখছে প্রাগ্মাটিক (বাস্তববাদী) ও স্থিতিস্থাপক হিসেবে — অর্থাৎ তারা মূলত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, সামরিক লড়াইয়ের জন্য নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীন কোনওভাবেই সরাসরি অস্ত্র বা সেনা পাঠাতে চাইবে না, কারণ এতে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ও গালফ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হয়ে যাবে।

ইরানের মোট বার্ষিক তেলের বড় একটি অংশ চীনের কাছে রপ্তানি হয়, তাই সম্পর্ক অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও পুরোটা সামরিক নিরাপত্তা ভিত্তিক না।

কেন তারা সিরিয়াস সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না?

রাশিয়া এবং চীন উভয়ই বলেছেন যে তারা যুদ্ধ (বৃহত্তর সংঘর্ষ) ঠেকাতে চান এবং যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মস্কো আগ্রহী যে যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেন অবস্থার মতো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেবে, আর চীন তাঁর অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং গালফ অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখার দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

রাশিয়া ও চীন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে। কিন্তু তারা সামরিক সহায়তা বা সরাসরি লড়াইতে অংশ নিচ্ছে না।

সম্পর্ক এখনো কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ, সামরিক বন্ধুত্ব হিসেবে নয়।