মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানের জেরে সৃষ্ট বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করেছে, যা ইতোমধ্যে চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর দমননীতির ফলে এই বিক্ষোভ নিউইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো এবং ডালাসের মতো প্রধান শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চার হাজার ন্যাশনাল গার্ড ও ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করা হলেও ট্রাম্প প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় মার্কিন সরকার বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস শহরের ডাউনটাউনে কারফিউ জারি করেছেন, যা স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং সকাল ৬টা পর্যন্ত চলবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই কারফিউ বেশ কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডোনেল জানিয়েছেন, গত চার দিনে মোট ৩৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মঙ্গলবারেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২০০ জন। মেয়র আরও জানান, এই চার দিনের বিক্ষোভে ২৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে।

মূলত, তথাকথিত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ধরপাকড়ই এই ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্ম দিয়েছে। এই অস্থিরতা এখন ক্যালিফোর্নিয়ার বাইরেও দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে পৌঁছানোর সাথে সাথে বোস্টন, হিউস্টন এবং ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরগুলোতেও একই ধরনের প্রতিবাদের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, ট্রাম্পের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ দমনে ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা মোতায়েনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। তিনি দ্রুত এই সেনাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।