ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ইরানে এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করার কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই।

তবে যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক লক্ষ্য নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছি, যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে—যা এতদিন কেবল কল্পনাই করা যেত।’

সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন ‘স্পষ্টবাদী’ ও ‘এক কথার মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তবে আলোচনার শেষ দিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, যুদ্ধের বাকি পথ ইরানের জনগণই নির্ধারণ করবে এবং তারাই বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি মনে করেন, এই অভিযান আরও বড়জোর চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান একটি বড় দেশ, তাই অভিযান কিছুটা প্রলম্বিত হতে পারে। তবে তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে না।’

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্ভুল আঘাত হানা সম্ভব হলেও ইরানের গভীরে প্রোথিত আদর্শিক ভিত্তি উপড়ে ফেলা সহজ নয়।

কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে একটি দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।