লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভঙ্গুর অবস্থাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছিলেন যে, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহ মধ্যস্থতাকারীদের সাথে কথা বলে উভয় পক্ষকে সংঘাত বন্ধে সম্মত করাতে পেরেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এই ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ লেবাননের বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হবে। তবে এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে হামলা চালায়। একইসাথে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখলে বৈরুতে পাল্টা হামলা চালানো হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পিত সামরিক কার্যক্রমও চলবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শান্তি স্থাপনের দাবি করছেন, অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে সংঘাতের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা সোমবার ইসরায়েলি সেনা সমাবেশ ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ৪১টি অভিযান চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আল-জাজিরার কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের আশাবাদ এবং ইসরায়েলের রণকৌশলের মধ্যে বিশাল ফারাক বিদ্যমান। এছাড়া ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনা স্থগিত করা হতে পারে।