ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলায় সপরিবারে নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবরটি রোববার (১ মার্চ) নিশ্চিত করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো।
খামেনির বিদায়ের পর স্বভাবিকভাবেই সবার মনে এখন বড় প্রশ্ন, কে এবার হাল ধরবেন ইরানের? খামেনির উত্তরসূরী হতে যাচ্ছেন কে?
ইসরায়েলি হামলা এবং মার্কিন ড্রোন থেকে শীর্ষ নেতাদের জীবন বাঁচাতে এবার এক নজিরবিহীন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ আগেই করে রেখেছিলেন সদ্য প্রয়াত খামেনি।
হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার ওপর সফল গুপ্তহত্যার ঘটনার পরই খামেনি তার মৃত্যুর পর দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে এক বিশেষ ডিক্রি জারি করে গিয়েছিলেন।
সেই অনুযায়ী খামেনির উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি।
নিউইয়র্ক টাইমস এবং মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির অবর্তমানে বা যেকোনো জরুরি অবস্থায় দেশের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
লারিজানি বর্তমানে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, যা দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। যদিও তিনি ধর্মীয় পদের জন্য যোগ্য নন, তবে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করছেন খামেনি।
বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খামেনি একটি ‘ফোর-লেয়ার সাকসেশন প্ল্যান’ বা চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।
এর অর্থ হলো, সামরিক বা সরকারি কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা আগে থেকেই চার ধাপ পর্যন্ত নির্ধারণ করা আছে।
প্রতিটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিজেদের অন্তত চারজন উত্তরসূরির নাম চূড়ান্ত করে রাখেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে খামেনি বিশ্বকে দুটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন:
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
ট্রাম্পের লক্ষ্য কি কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করা, নাকি তেহরানে সরকার পরিবর্তন—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এর জবাবে খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প চাইলেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করতে পারবেন না।
ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব এখন নিবিড়ভাবে তেহরানের এই নতুন সাংগঠনিক বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি—ইরানের এই দ্বিমুখী কৌশলে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।