অশান্ত এই পরিস্থিতির মধ্যে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ চালাতে পারে, এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প মাদুরো সরকারের পতন চায় বলেও শোনা যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর সমর্থনে হাজারো মানুষ একত্র হয়েছিলেন। তারা ভেনেজুয়েলার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকির’ প্রতিবাদ জানান।

সমর্থকের উদ্দেশে মাদুরো বলেন, দাসত্বের মাধ্যমে শান্তি পেতে চায় না ভেনেজুয়েলা।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার মুখে নিজেদের সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত করছে ভেনেজুয়েলা। মাদুরো বলেন, ‘আমাদের ওপর ২২ সপ্তাহ ধরে আগ্রাসন চালানো হয়েছে, একে মনস্তাত্ত্বিক সন্ত্রাসবাদ বলা চলে। এই ২২ সপ্তাহ ধরে তারা আমাদের পরীক্ষা করেছে। জন্মভূমির প্রতি ভেনেজুয়েলার জনগণ তাদের ভালোবাসা দেখিয়েছেন।’

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে গত কয়েক মাস ধরেই যুদ্ধজাহাজ ও সেনা জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি ইতিমধ্যে সেখানে বেশ কয়েকটি জাহাজ ও নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিনিদের দাবি, এসব নৌযানে করে মাদক চোরাচালান করা হচ্ছিল।

এরমধ্যে একটি নৌকাতে মার্কিন সেনাদের দুইবার হামলার ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এতে দেখা গেছে, প্রথম হামলায় নৌকার কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তখনো আরও অন্তত দুজন বেঁচে ছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

ভিডিও ফাঁসের পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে এটির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মন্ত্রিসভায় এ ব্যাপারে বলেন, মাদক চোরাকারবারীরা গত বছর দুই লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। আমরা এ সংখ্যা কমাতে যাচ্ছি। মাদকের সঙ্গে জড়িত সেসব কুকুর ছানাদের আমরা শেষ করে দেব। আমরা আর মাদক আমাদের দেশে প্রবেশ করতে দেব না।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলায় **যে কোনো সময় সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র**—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, **ভেনেজুয়েলার ভেতরে থাকা মাদক চক্রের অবকাঠামোই** এই হামলার মূল লক্ষ্য হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার মাদক কারবারিরা বিপুল পরিমাণ **ফেনটানিল উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করছে**, যার কারণে প্রতি বছর হাজারো মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারাচ্ছে। তার কথায়, শুধু গত বছরই এই মাদকদ্রব্যে প্রায় **দুই লাখ মানুষের মৃত্যু** ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, “যেভাবে আমরা সমুদ্রপথে অভিযান চালিয়েছি, এবার স্থলপথেও তা শুরু করব। স্থল অভিযান সমুদ্রপথের চেয়ে অনেক সহজ। মাদক পরিবহনের কোন পথগুলো ব্যবহার হয়, কারা জড়িত—এসব বিষয়ে আমাদের পূর্ণ ধারণা আছে। খারাপ লোকেরা কোথায় থাকে আমরা জানি, এবং খুব দ্রুতই সেখানে হামলা শুরু হবে।”

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। ক্যারিবীয় সাগরে তিনি **মার্কিন নৌবাহিনীর বড় ধরনের সমাবেশ** ঘটিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরের পর ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পাচারের অভিযোগে একাধিক নৌযানে আক্রমণ চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার **আকাশসীমা এড়িয়ে চলার** সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।