ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরপেক্ষতার নীতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ওআরএফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একাধিকবার এ ধরনের অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে কতগুলো অনুরোধ এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেয়নি; বরং প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি অনুরোধ পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। তাদের এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বৈঠকের সারসংক্ষেপ জানিয়ে কাজা কালাস লেখেন, ‘বেসামরিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা এবং অন্যান্য হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী এই প্রণালিতে নিরাপদ ও শুল্কমুক্ত জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এখন আমাদের জরুরি অগ্রাধিকার।’
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক জোট জি৭ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাসকাল কনফাভ জানিয়েছেন, এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা ও চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বর্তমানে জি৭-এর সভাপতিত্ব করছে ফ্রান্স, এবং তাদের উদ্যোগেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।