মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস গড়েছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশন। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে ঘুরিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে, ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছে চার নভোচারী নিরাপদে অবতরণ করেন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চগতিতে প্রবেশের পর প্যারাশুটের মাধ্যমে তাদের অবতরণ সম্পন্ন হয়। পরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাদের সংগ্রহ করে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই অভিযানে অংশ নেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ ও জেরেমি হ্যানসেন। তারা ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ১০ দিনের অভিযানে রওনা হন। মিশনের সময় তারা চাঁদের অদৃশ্য পাশ প্রদক্ষিণ করেন।

এটি ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথম মানবচালিত চন্দ্র অভিযান। এই যাত্রায় নভোচারীরা মানব ইতিহাসে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ মিশনে ওরিয়ন মহাকাশযানের তাপ-ঢাল, দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা এবং জীবনধারণ সহায়ক প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে।

পৃথিবীতে ফেরার সময় তীব্র তাপের কারণে কিছু সময়ের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা মহাকাশযাত্রার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি।

এই অভিযানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্জনও এসেছে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদ প্রদক্ষিণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কখ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

মিশনের সময় নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করেন এবং সূর্যগ্রহণসহ বিভিন্ন মহাজাগতিক দৃশ্য দেখেন। মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেন, এই যাত্রা মানুষকে পৃথিবীর সৌন্দর্য নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে।

বর্তমানে নভোচারীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিগগিরই টেক্সাসের জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে ফিরে যাবেন।