যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাস পর আগামী ৯ জুলাই তেহরানে তার দাফন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এই সময় জুড়ে তার লাশ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনির লাশ কোনো রাসায়নিক উপাদান দিয়ে নয়, বরং বিশেষ শীতলীকরণ (কুলিং) ব্যবস্থায় রাখা হয়েছিল। ইসলাম ধর্মে রাসায়নিক পদ্ধতিতে লাশ সংরক্ষণ করা নিষিদ্ধ হলেও, শিয়া ফিকহ বা আইন অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে লাশ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে।

তবে শেষ মুহূর্তে দাফনের স্থান বারবার পরিবর্তন এবং সময় নির্ধারণে অনিশ্চয়তা ইঙ্গিত করে যে, লাশ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও তা হয়তো সর্বসাধারণের প্রদর্শনের উপযোগী অবস্থায় ছিল না।

এদিকে খামেনির এই অন্তিম বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে বিশাল জনসমাগমের প্রস্তুতি চলছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশবাসীকে এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, এই রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে চরম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান স্পষ্ট ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বা উসকানি থেকে যেন তারা বিরত থাকে, অন্যথায় কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় চালানো এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন।