চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। দক্ষিণ চীন সাগরে লাইভ-ফায়ার মহড়া শেষে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এই বিশাল যুদ্ধজাহাজটি ডেস্ট্রয়ার স্প্রুয়ান্স, মাইকেল মারফি ও ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসেন জুনিয়রের সহায়তায় অঞ্চলে পৌঁছায়।

৬.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের নিমিৎজ-শ্রেণির এই রণতরীতে রয়েছে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যুদ্ধযান, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ব্যাপক আঘাত হানার সক্ষমতা। নিমিৎজ-শ্রেণির পঞ্চম এই এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারকে মার্কিন নৌবাহিনীর সামুদ্রিক আধিপত্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে এই সামরিক তৎপরতার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালায় তাহলে ইরান তার নির্ধারক, তাৎক্ষণিক ও আনুপাতিক জবাব দেবে।

বাহরাইনে একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নীতিমালা দুর্বল করে সামরিক আগ্রাসন ও সম্পদ শোষণের চেষ্টা করছেন। হাজিবাবাই বলেন, ইসলামিক রিপাবলিক কখনো হুমকি বা সংঘাত শুরু করেনি, তবে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আগ্রাসনের জবাব জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেয়া হবে।

হাজিবাবাই আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর স্বার্থও উপেক্ষা করছেন। কোনো দেশই তার আকার, শক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ইতিহাস যাই হোক না কেন- অতিরিক্ত দাবি, চাপ ও ভীতি প্রদর্শনের বাইরে নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে দুর্বল ও অকার্যকর করে তোলার জন্য একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিত প্রচেষ্টা চলছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।