মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত কর-দায়মুক্তি চুক্তি বিচারক কর্তৃক বাতিল হওয়ার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আবারও কর ফাঁকির তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ক্যাথলিন উইলিয়ামস ট্রাম্পের করা একটি মামলার মীমাংসা চুক্তিকে "খারাপ উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়াকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা" আখ্যা দিয়ে এটি বাতিল করেন।

আদালত ট্রাম্পের আইনজীবী আলেজান্দ্রো ব্রিটোসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পেশাগত নৈতিকতা লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশও করেছেন।

জুলাই মাসে মার্কিন বিচারক ক্যাথলিন উইলিয়ামস চুক্তিটিকে বাতিল ঘোষণা করেন। তাঁর মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনি বৈধতা পাওয়ার জন্য এই সাজানো চুক্তি করা হয়েছিল।

অবশ্য, এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আইনি দল ইতিমধ্যেই আপিল আবেদন জমা দিয়েছে।

২০১৯ সালে ট্রাম্পের গোপন করসংক্রান্ত তথ্য ও রিটার্ন গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তাঁর নিজের সরকারের রাজস্ব বিভাগ (IRS) এবং ট্রেজারির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন।

মে মাসে ট্রাম্প ও বিচার বিভাগের (DOJ) তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। এই চুক্তির অধীনে ট্রাম্প মামলা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে ট্রাম্প, তাঁর পরিবার ও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে অতীতের সব আইআরএস অডিট (কর পরীক্ষা) থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে ১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত 'অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড' বা বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।

এই চুক্তি বাতিলের ফলে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের এড়ানো কর ফাঁকির অভিযোগগুলো নিয়ে পুনরায় আইআরএস-এর অডিট ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি, বিচারক তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং এই আদেশের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই উচ্চ আদালতে জারি থাকবে।