ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে ঘিরে হার্ডলাইন অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কেবল মোজতবা খামেনিই নন, বরং তার সরকারের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যের জন্য বিশাল অংকের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মার্কিন ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুজতবা খামেনি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

মার্কিন প্রশাসনের তালিকায় মুজতবা খামেনির পাশাপাশি নাম রয়েছে তার প্রয়াত পিতার ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি এবং প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির।

ওয়াশিংটনের এই ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় আরও রয়েছেন সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহইয়া রহিম সাফাভি, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ও গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব।

এছাড়া সরাসরি নাম উল্লেখ না করে আইআরজিসি-র কমান্ডার-ইন-চিফ, সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি এবং সর্বোচ্চ নেতার সামরিক দপ্তরের প্রধানকেও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ব্যক্তিরা আইআরজিসির বিভিন্ন শাখা পরিচালনা ও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর অভিযান পরিকল্পনার নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তাদের কার্যক্রম বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেউ যদি এই ব্যক্তিদের অবস্থান বা আইআরজিসির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে চান, তবে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ বা টর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে যোগ্য তথ্যের বিনিময়ে ঘোষিত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।