যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের আলোচনা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বা আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি হলেও এই প্রণালীটির ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজার এবং জ্বালানি খাত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দামের কাছাকাছি।
তেলের দাম কমলেও বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীর মাইন ঝুঁকি এবং জাহাজের অতিরিক্ত বীমা খরচের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক নাও হতে পারে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে তেলের দাম আবার লাফিয়ে বাড়তে পারে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক জাহাজ চলাচলের গড় সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পারাপার হয়েছে।
ফ্রান্স ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মাইনমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, উপকূলীয় দেশ হিসেবে এই জলপথ মাইনমুক্ত করতে তাদের বাইরের কোনো দেশের সহায়তার প্রয়োজন নেই, যা নতুন করে এক ধরনের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছে।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৮০ শতাংশ বৈশ্বিক কোম্পানি হরমুজ প্রণালীর ট্রানজিট অনিশ্চয়তার কারণে নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩.৫% কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবহন ও বীমা খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD) জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘমেয়াদি গোলযোগের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি পেয়ে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা আসতে পারে।বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে চলমান শান্তি আলোচনা, মার্কিন অর্থনৈতিক উপাত্ত এবং ওমান উপকূলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন