মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। তবে তীব্র উদ্বেগ ও নিরাপত্তা হুমকির মাঝেও এখন পর্যন্ত এ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়েছে জ্বালানি বাজারে—বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয় এই ৫৫–৯৫ কিলোমিটার প্রশস্ত জলপথ দিয়ে, যা পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। যুদ্ধের আশঙ্কায় এখনই রুট বন্ধ করেনি ইরান, তবে সামুদ্রিক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরগতি আর অতিরিক্ত সতর্কতা তেল সরবরাহ চেইনে চাপ তৈরি করছে।
বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিল (BIMCO)-এর নিরাপত্তা প্রধান জ্যাকব লারসেন জানিয়েছেন, “বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা শুধু ভ্রমণকালই বাড়াচ্ছে না, তেল সরবরাহের ব্যয়ও বাড়াচ্ছে।”
১৩ জুন রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামে ইরান শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও আশপাশের ঘাঁটিতে। পাল্টা জবাবে ইসরায়েল হামলা চালায় ইরানের আবাসিক অঞ্চল ও পরমাণু স্থাপনাগুলোর দিকে। সংঘাতের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না।
এই পারস্পরিক আঘাতে শুধু দুটি রাষ্ট্রই নয়, কাঁপছে গোটা বৈশ্বিক অর্থনীতি। কারণ, হরমুজের একচিলতে নৌপথে আটকে আছে বিশ্ব তেলের লাইফলাইন।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী সর্বশেষ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়েছিল ১৯৮৪ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। তারপর বহুবার উত্তেজনা দেখা দিলেও বাণিজ্য সচল ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক, কারণ দুই দেশের সংঘর্ষ সরাসরি কৌশলগত স্থাপনায় গড়াচ্ছে।
মেরিন ট্রাফিকের সর্বশেষ তথ্যমতে, এখনো দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। তবে পরিস্থিতি অবনতি ঘটলে প্রণালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।