* হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে ৪ ইসরাইলী সেনা নিহত
* মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে মার্কিন প্যারাট্রুপার
* সিসিলি ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল না ইতালী
হরমুজ প্রণালীর বড় অংশ বন্ধ থাকলেও ইরান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন। এদিকে চীন বলেছে, চীন ও পাকিস্তান সব সময়ের কৌশলগত অংশীদার। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অর্থবহ আলোচনা করতে প্রস্তুত। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে ৪ ইসরাইলী সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ণ ডিভিশনের কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে আসতে শুরু করেছে। ইরানের ইসফাহানে বাংকার বাস্টার বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। কুয়েতের তেলভর্তি জাহাজে হামলার কারণে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এছাড়া স্পেনের পর ইতালী যুক্তরাষ্ট্রকে সিসিলি ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিবে না বলে জানিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, এএফপি, টাইমস অব ইসরাইল, আল জাজিরা, গালফ নিউজ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
হরমুজ না খুলে যুদ্ধশেষ করতে রাজি ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালির বড় অংশ বন্ধ থাকলেও ইরান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে সহযোগীদের জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রণালিটি খোলার অভিযান তিনি পরবর্তী সময়ের জন্য তুলে রাখতে চান। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এর কয়েক ঘণ্টা পর গতকাল মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং এবং পাকিস্তান ইরানের বিষয়ে তাদের সহযোগিতা আরও ‘শক্তিশালী’ করবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, নৌপথটি পুনরায় খুলে দেয়ার অভিযান নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমাকে ছাড়িয়ে যাবে। তাই তিনি প্রথমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীকে বিধ্বস্ত করার ওপর মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরবর্তীতে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খোলার ব্যবস্থা করবেন।
সহযোগিতার ঘোষণা চীনের
গতকাল মঙ্গলবার বেইজিং সফরে গেছে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল। এই দলে আছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ আলোচনা’ আয়োজন করতে প্রস্তুত।
সফরে শীর্ষ চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই’র সঙ্গে ইশহাক দারের আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনার কথা আছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, চীন ও পাকিস্তান ‘সব সময়ের’ কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরান পরিস্থিতির বিষয়ে কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করবেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন। চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় গত রোববার সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার পর ইশহাক দার বেইজিং সফর করছেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ চলমান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ বাড়ছে। চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলেও যুদ্ধে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয়নি। বরং বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে।
হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে ইসরাইলের ৪ সেনা নিহত
ইসরাইলী সামরিক বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে একই ব্যাটালিয়নের তিন সেনার নাম প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, তারা ‘লড়াই চলাকালে নিহত’ হয়েছেন। পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে জানানো হয়, একই ঘটনায় আরও একজন সেনা মারা গেছেন। তবে তার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্য একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ লড়াইয়ে আরেক সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া রিজার্ভ ফোর্সের এক সদস্য মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে আসতে শুরু করেছেন মার্কিন
বাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে আসতে শুরু করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানালেন।
প্রথম গত ১৮ মার্চ একটি প্রতিবেদনে বলেছিল, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করার কথা ভাবছে। ইরানের ভেতরে সৈন্য মোতায়েনের বিষয়টিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ প্যারাট্রুপাররা নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা কয়েক হাজার অতিরিক্ত নাবিক, মেরিন ও ‘স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হবেন। গত সপ্তাহান্তে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনাসদস্য মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন।
ইরানের ইসফাহানে গোলাবারুদের ডিপোতে
যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ইসফাহানে একটি বিশাল গোলাবারুদের ডিপোতে ২ হাজার পাউন্ডের (৯০৭ কেজি) ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলায় বিপুলসংখ্যক ‘পেনিট্রেটর মিউনিশন’ বা ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসকারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইসফাহানে বিশাল বিস্ফোরণের একটি ভিডিও ট্রাম্প কোনো ক্যাপশন ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
ভিডিও পোস্ট করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কোনো মন্তব্য ছাড়াই একটি বিশাল বিস্ফোরণের ভিডিও শেয়ার করেছেন। এটি ইসফাহানের উপকণ্ঠে চালানো একটি বড় ধরনের হামলার বলে মনে করা হচ্ছে। বেলুচ মানবাধিকারগোষ্ঠী ‘হালভাশ’ ইসফাহানের বাইরে থেকে ধারণ করা একই ধরনের আরও কিছু ভিডিও শেয়ার করেছে। নাসা’র স্যাটেলাইটের তথ্য, বিস্ফোরণগুলো সোফেহ পাহাড়ের কাছে ঘটেছে। ধারণা করা হয়, ওই এলাকায় সামরিক অবস্থান রয়েছে। ভিডিওগুলোতে আগুনের বিশাল কু-লী ও বারবার হতে থাকা ছোট ছোট বিস্ফোরণ দেখা গেছে। সাধারণত গোলাবারুদের ডিপোতে আগুন লাগলে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে থাকে।
কুয়েতের তেলভর্তি জাহাজে ইরানের হামলায়
সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
ইরান গত সোমবার দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে জ্বালানি তেলবোঝাই একটি বিশাল জাহাজে হামলা করলে এটিতে আগুন ধরে যায়। এতে জাহাজটির মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। আজ মঙ্গলবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সে আগুন নেভানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরই এ হামলার ঘটনা ঘটল। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনিগুলো ধ্বংস করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে সিসিলি ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলো না ইতালি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বিমান অভিযান পরিচালনা করার জন্য সিসিলি দ্বীপের সিগোনেল্লায় স্থাপিত নিজেদের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু ইতালির সরকার তা অনুমোদন করেনি। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে করিয়েরে দেল্লা সেরা জানিয়েছে, সম্প্রতি ইতালির সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে কোনো প্রকার পূর্বালোচনা না করেই সিগোনেল্লা ঘাঁটিতে কয়েকটি শক্তিশালী বোমারু বিমান পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী। মূলত ইরানের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্যই পাঠানো হয়েছিল বিমানগুলো।
ব্যাপারটি জানতে পেরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোম জানিয়ে দেয়— মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযানে সিগোনেল্লা ঘাঁটি-কে ব্যবহার করা যাবে না এবং ইতালির অন্য কোনো ঘাঁটি যদি মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করতে চায়— তাহলে অবশ্যই ইতালির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাপ্তরিকভাবে অনুমতি নিতে হবে।ইতালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি ঘাঁটি ও স্থাপনা আছে। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলো হলো আভিয়ানো বিমানঘাঁটি, ভিসেঞ্জা সেনাঘাঁটি, ক্যাম্প ডার্বি সেনাঘাঁটি, নেপলসের নৌঘাঁটি এবং সিগোনেল্লার বিমান ও নৌঘাঁটি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো বিমান সিগোনেল্লায় এনেছিল— তা জানায়নি ইতালির সরকারি সূত্র। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ইতালির সরকারি ও সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স; কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এর আগে স্পেন ইরান যুদ্ধে দুই স্পেনীয় সেনাঘাঁটি মোরোন ও রোতা ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।