ভারতের আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী ধেমাজি এলাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আসামের মিসিং জনগোষ্ঠীর শীর্ষ ছাত্র সংগঠন তাকাম মিসিং পরিন কেবাংয়ের অর্থনৈতিক অবরোধকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের ১১ জন আদিবাসীকে গুলি করে আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করে সংগঠনটি। এ কর্মসূচিতে স্থানীয় আরও কয়েকটি সংগঠনও সমর্থন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আসামের ধেমাজির লিকাবালি প্রবেশপথে অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে শূন্যে গুলি ছুড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার আসামের আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী রনোজ পেগু এবং সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়নমন্ত্রী অতুল বোরা তাকাম মিসিং পরিন কেবাং অল মিসিং স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রনোজ পেগু বলেন, সীমান্তবর্তী ধেমাজির মিংমাং এলাকায় গুলির ঘটনায় আসামের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হবে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি আসামে ঘটেছে। তবে যে ব্যক্তি গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত, তিনি অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা। আমরা অরুণাচল সরকারকে আসাম পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা এবং অভিযুক্তকে আসাম পুলিশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানাব। আহতদের চিকিৎসার ব্যয় আসাম সরকার বহন করবে বলেও জানান তিনি।
অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে পেগু বলেন, দুই রাজ্য সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করবে।
অন্যদিকে, অতুল বোরা সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মিসিং জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং বারবার তৈরি হওয়া উত্তেজনা নিয়ে সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কথা শোনেন। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এর আগে সোমবার আসাম-অরুণাচল সীমান্তে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হন। অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে আসামের জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
অবরোধ কর্মসূচিতে তাকাম মিসিং পরিন কেবাংয়ের পাশাপাশি মিসিং মিমাগ কেবাং ও তাকাম মিসিং মহিলা কেবাংও সমর্থন দিয়েছে। জরুরি ও স্কুল পরিবহন ছাড়া অরুণাচল প্রদেশে যাতায়াতকারী যানবাহন আটকে দেওয়া হচ্ছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দুই রাজ্যের মধ্যে চলমান সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে ৮০৪ দশমিক ১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই রাজ্যের সীমান্তে শুরুতে বিরোধপূর্ণ বা সংঘাতপ্রবণ ১২৩টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭১টি এলাকার বিরোধ এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৫২টি এলাকা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
সূত্র : এনডিটিভি