প্রথমবারের মতো শিশু জন্মে উৎসাহিত করতে সারা দেশে আর্থিক প্রণোদনা চালু করলো চীন। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় তিন বছরের কম বয়সী প্রতিটি সন্তানের জন্য বছরে ১,৫০০ ডলার সমপরিমাণ ভাতা দেওয়া হবে। শিশু লালন-পালনে অভিভাবকদের সহায়তা করতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

চীনে ১৯৭৯ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে 'এক সন্তান' নীতি চালু হয়, যা প্রায় তিন দশক ধরে বহাল ছিল। পরে তা শিথিল করা হলেও জন্মহারে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, নতুন এই আর্থিক সহায়তা প্রকল্প প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি পরিবারকে সহায়তা করবে।

চীনের বিভিন্ন প্রদেশে ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে শিশু ভাতা কর্মসূচি চালু হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, এই নতুন কর্মসূচি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চালু হয়েছে। এমনকি ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারও আংশিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে।

চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর হোহোট তিন সন্তানের অভিভাবকদের প্রতি শিশুর জন্য এক লাখ ইউয়ান করে প্রণোদনা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর শেনইয়াং-এ তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তিন বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০০ ইউয়ান করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বেইজিং সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিনামূল্যে প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষা চালু করতে পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছে।

চীনের ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান লালন-পালনে ব্যয়ের দিক থেকে চীন বিশ্বের ব্যয়বহুল দেশগুলোর একটি। গড় হিসাবে, ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত একজন শিশুকে বড় করতে প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ ডলার খরচ হয়।

জনসংখ্যা সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের জন্মহার টানা তৃতীয় বছরের মতো হ্রাস পেয়েছে। ওই বছর ৯.৫৪ মিলিয়ন শিশুর জন্ম রেকর্ড করা হলেও দেশের মোট জনসংখ্যা কমেছে।

বর্তমানে দেশটির ১.৪ বিলিয়ন জনগণের বড় একটি অংশই প্রবীণ, যা জনশক্তি ও অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।