কথায় আছে কৃষ্ণ করলে লীলাখেলা, আমি করলেই দোষ। আর প্রবাদ বাক্যের যেন বাস্তব নজির দেখিয়ে দিল মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ড্রোনের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এবার ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করল গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)।

যদিও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে যৌথ হামলা চালায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাটি থেকে, সে সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব কিংবা ওমান, কেউই জানায়নি কোনো প্রতিবাদ। বরং সাদরে তাদের দেশ থেকে ইরানে হামলা চালানোর একপ্রকারে মৌন সম্মতিই দিয়েছিল তারা।

ট্রাম্প ইরানে হামলা চালালে সেখানে কোনো দোষের কিছু না দেখলেও ইরানের পাল্টা হামলা যেন মহাপাপ গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের কাছে। 

রোববার (১ মার্চ) আয়োজিত এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

জিসিসি এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং ওমানসহ সদস্য দেশগুলোর ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা মানে পুরো সংস্থার ওপর হামলা বলে গণ্য করা হবে।’

জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিজেদের রক্ষায় এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সদস্য রাষ্ট্রগুলো রাখে বলে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চলমান এই সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ সর্বোচ্চ আরও চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান একটি বড় দেশ হলেও তাদের শক্তি সীমাবদ্ধ। আমাদের অভিযান যেভাবে চলছে, তাতে চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগার কথা নয়।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, চলমান সামরিক অভিযানে সৌদি আরবও সরাসরি যুক্ত হয়েছে। তবে এই বিষয়ে রিয়াদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি বা দায় স্বীকার করেনি।

ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জিসিসি’র এই কড়া অবস্থানের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরমে।