মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং প্রলয়ঙ্কারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর এবার দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবারের ভয়াবহ যৌথ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ শাহাদাত বরণ করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছে, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’। তবে কেবল খামেনি নন, এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল স্তম্ভগুলো ধসে পড়েছে।

নিহতদের তালিকায় আরও রয়েছেন:

আলী শামখানি: সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব।

জেনারেল মোহাম্মদ পাকপোর: ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) প্রভাবশালী কমান্ডার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন যৌথ অভিযান চালায়, তখন খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও সামরিক কমান্ডারদের নিয়ে একটি অত্যন্ত জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই বৈঠকের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর দিনের আলোতেই ‘হাই-ভ্যালু টার্গেট’ হিসেবে এই হামলা পরিচালনা করে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় খামেনির সাথে থাকা তার প্রধান সহযোগীরা সবাই নিহত হয়েছেন। আইআরএনএ আরও জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের নাম পরিচয় পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।

৩৭ বছর ধরে দেশটি শাসন করা খামেনি এবং তার প্রধান সামরিক কর্মকর্তাদের এই গণমৃত্যু ইরানকে এক চরম প্রশাসনিক ও সামরিক শূন্যতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তেহরানসহ পুরো ইরানে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

আইআরজিসি এবং নিয়মিত সেনাবাহিনী তাদের প্রধানদের হারিয়ে এখন নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ইতিহাসের এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক বিপর্যয়, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে।